যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির (Ceasefire MoU) পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে কমে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক সময়ে (ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭২ ডলারে) ফিরে এসেছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে জাতিসংঘের রুট ব্যবহারকারী সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এভারগ্রিন কোম্পানির কন্টেইনার জাহাজ ‘এভার লাভলি’ (Ever Lovely)-র ওপর হামলার পর সেই স্বস্তি কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী, আগস্ট মাসের সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৪ মার্কিন ডলার ৮৯ সেন্টে উঠে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সামরিক অস্থিরতা এশিয়ার পুঁজিবাজারে এক বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন, ২০২৬) সকালে বাজার খোলার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে প্রধান সূচকগুলোর পতন ঘটে:
- টোকিও ও সিউল: জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই-২২৫ (Nikkei 225) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি (KOSPI) সূচক সকালে লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩ শতাংশের বেশি পড়ে যায়।
- হংকং ও তাইওয়ান: হংকংয়ের ঐতিহ্যবাহী হ্যাংসেং (Hang Seng) এবং তাইওয়ানের তাইএক্স (TAIEX) সূচকেও বড় ধরণের পতন রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবহন হয় এই ওমান ও ইরান সীমান্তের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পর এই নৌপথে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছিল।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO) ওমান উপকূল ঘেঁষে একটি নিরাপদ রুট তৈরি করে জাহাজগুলোকে বের করে আনার কাজ শুরু করেছিল। মেরিনট্রাফিক ও কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবারই রেকর্ড সর্বোচ্চ ৭০টি জাহাজ এই পথ পার হয়েছিল। কিন্তু ‘এভার লাভলি’ জাহাজের ডানদিকের ব্রিজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানার পর আইএমও-র সেক্রেটারি জেনারেল আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানান:
“নাবিক ও সাধারণ ক্রুদের জীবন নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সবচেয়ে অগ্রগণ্য। যদিও আক্রান্ত জাহাজটি সরাসরি আমাদের উদ্ধার তালিকার অধীনে ছিল না, তবুও এই রুটের নিরাপত্তা গ্যারান্টি পুনর্মূল্যায়ন করতে আমরা সাময়িকভাবে এই জাহাজ সরানোর মানবিক স্কিমটি স্থগিত করছি।”
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে ওমানের দাহীত বন্দরের ৭.৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে জাহাজটিতে আঘাত করা হয়। নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) একটি আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে এই হামলাটি চালিয়েছে।
এর আগে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনায় (IRNA) সতর্ক করে বলা হয়েছিল, তেহরানের সাথে সমন্বয় না করে ওমান ও জাতিসংঘের তৈরি করা এই দক্ষিণ রুটটি সম্পূর্ণ ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’। তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় এখনো স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি।
