নির্বাচনের পর ক্ষমতার ভারসাম্য ও মাঠপর্যায়ের জননিরাপত্তা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সরকারি দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলীয় নেতা। কল্যাণপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ছাত্রনেতা সালাউদ্দিনের শয্যাপাশে দাঁড়িয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
[Representative political news image showing Leader of the Opposition and Jamaat Ameer Dr. Shafiqur Rahman speaking to journalists outside a hospital in Dhaka]
হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জাতীয় নির্বাচন শেষ হতে না হতেই সরকারি দলের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, হাট-বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই অবৈধ দখলদারিত্বের বলি হয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের এবং বিরোধী দলের ৫ জন নিরীহ নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।”
তিনি এই মাঠপর্যায়ের সহিংসতার জন্য সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতাদের দায়ী করে বলেন, “সরকারি দলের নেতাদের বিভিন্ন উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যই মাঠপর্যায়ের কর্মীদের এই ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে উৎসাহিত করছে।”
ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্রকে বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করে জামায়াত আমির তীব্র আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন:
“বর্তমান সরকারি দল ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ঠিক সেই ফ্যাসিস্ট ও গণবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগের চেনা পথ ধরেই হাঁটছে। তারা ভাবছে ভয় দেখিয়ে বা হত্যা করে পার পেয়ে যাবে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত, জামায়াতে ইসলামী কখনো অন্যায়, জুলুম ও ফ্যাসিবাদের সাথে আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।”
সরকারকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন—যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, বিরোধী দল দমন এবং নেতাকর্মীদের ওপর এই ধরণের বর্বরোচিত হামলা-হত্যাকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে দেশের সচেতন ছাত্র-জনতা তা মুখ বুজে সহ্য করবে না। স্বৈরাচারী আচরণের এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাজপথে ‘আবারও একটি ঐতিহাসিক জুলাই’ (নতুন গণ-অভ্যুত্থান) ফিরে আসবে।
