জুলাই স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের

দেশের বর্তমান সংসদীয় ও রাজপথের রাজনীতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কৌশলগত অবস্থানের বিরুদ্ধে এক নতুন ফ্রন্ট বা মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গতকাল মগবাজারে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষে এই ৩৬ দিনের টানা রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “বিগত নির্বাচনে ব্যাপকভিত্তিক ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং সুনির্দিষ্টভাবে ফলাফল পরিবর্তনের অকাট্য তথ্য ও অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে। এরপরও প্রশ্ন উঠতে পারে আমরা কেন এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি? জামায়াত ও আমাদের জোট যদি সেদিন এই ফলাফল মেনে না নিত, তবে দেশ এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের (Civil War) দিকে এগিয়ে যেত। কেবল দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বিগত আওয়ামী সরকারের মতোই ফ্যাসিবাদের নতুন রূপ এবং কর্তৃত্ববাদ ফিরিয়ে আনছে।

বিএনপিকে লক্ষ্য করে তোপ দেগে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “বিগত সরকারের আমলের গুম-খুনের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি মামলা গেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তার মধ্যে রায় হয়েছে মাত্র ৭টির। বিচারকাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। মূলত কেবল নিজেদের স্বার্থে নির্বাচন আদায়ের জন্য বিএনপি দেশের মানুষের সাথে এক ধরণের রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে। জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে এক নজিরবিহীন ছলচাতুরী করা হয়েছে।”

ড. হামিদুর রহমান আযাদ স্পষ্ট করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতি জনসচেতনতা তৈরি, জুলাই সনদ অক্ষুণ্ণ রাখা এবং গুম-খুনের দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করতেই এই ৩৬ দিনের রাজপথের কর্মসূচি দেওয়া হলো।

১১ দলীয় জোটের ঘোষিত রূপরেখা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে এই ৩৬ দিনের কর্মসূচি দেশব্যাপী ধাপে ধাপে শুরু হবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো:

  • ১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের সব জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিশেষ রাজনৈতিক সেমিনার, জুলাই বিপ্লবের চিত্র প্রদর্শনী এবং দেওয়ালে দেওয়ালে নতুন করে ‘গ্রাফিতি’ (Graffiti) অঙ্কন করা হবে। এর পাশাপাশি জুলাইয়ের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থানে গণ-স্মরণ সভার আয়োজন করা হবে।
  • ৪ জুলাই (শনিবার): দেশের সার্বিক জননিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জুলাই সনদের দাবিতে রাজধানী ঢাকা ব্যতীত দেশের বাকি সব জেলা ও মহানগরে একযোগে বিশাল ‘গণমিছিল’ করবে ১১ দলীয় ঐক্যজোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *