সালমান শাহ মামলায় নতুন মোড়, দেহাবশেষ তোলার আদেশ বাতিল করলেন আদালত

অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে গত মে মাসে সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ তোলার যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আজ নাটকীয়ভাবে স্থগিত হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী ও সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম নিজে হাজির হয়ে পূর্বের লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে একটি নতুন আবেদন দাখিল করেন। শুনানি শেষে আদালত বাদীপক্ষের যৌক্তিক দাবি আমলে নিয়ে আগের দেওয়া সেই ঐতিহাসিক আদেশটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার (Cancel) করে নেন।

বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবিদ হাসান ইটিসি বাংলাকে আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী আবিদ হাসান জানান, বাদীপক্ষ এবং সালমান শাহর মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ও মানবিক কারণে লাশ তোলার প্রক্রিয়া বন্ধ করার জোর আবেদন জানানো হয়েছিল:

১. প্রাকৃতিক ক্ষয় ও অতীত সুরতহাল: সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রায় ৩০ বছর (তিন দশক) কেটে গেছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারি যখন আদালতের নির্দেশে প্রথমবার ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছিল, তখনই সেটি অতিমাত্রায় পচনশীল (Highly Decomposed) অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সুতরাং এত দীর্ঘ সময় পর মাটির নিচে তাঁর কোনো ব্যবহারযোগ্য বা নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক দেহাবশেষ অবশিষ্ট থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ২. ধর্মীয় অনুভূতি ও মাজারের পবিত্রতা: সালমান শাহকে সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণের পবিত্র কবরস্থানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বারবার তাঁর শান্তিশায়িত কবর খুঁড়ে লাশ উত্তোলন করা হলে তা গভীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে। ৩. আইন-শৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা: দেশের কোটি কোটি সালমান শাহ ভক্ত এবং মাজারের সাধারণ ভক্তদের মাঝে এই কবর খোঁড়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এর ফলে মাজার প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের ব্যাপক বাধা এবং বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অধিকতর সম্ভাবনা রয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে এই মৃত্যুকে অপমৃত্যু বা আত্মহত্যা বলে সিআইডি ও বিচার বিভাগীয় তদন্তে রিপোর্ট দেওয়া হলেও, গত বছরের ২০ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলাটি একটি নিয়মিত ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে রমনা থানায় পুনরুজ্জীবিত করা হয়। নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, শাশুড়ি লতিফা হক লুছি এবং খলঅভিনেতা ডনসহ মোট ১১ জনকে পরিকল্পিত হত্যার আসামি করা হয়েছে। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই গত ২০ মে সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ তোলার আবেদন করলে গত ২৪ মে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা আজ চূড়ান্তভাবে বাতিল হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *