জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সব সন্ত্রাসী তৎপরতা প্রতিহত করা হবে’: রিজভী

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো ধরণের অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতা রুখতে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ ২৩ জুন (মঙ্গলবার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ ও সতর্ক অবস্থান কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

সকাল থেকেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চোরাগুপ্তা মিছিল বা নাশকতার আশঙ্কায় নয়াপল্টন কার্যালয় এবং এর আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী। পরে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সরাসরি নেতৃত্বে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে ভিআইপি রোডের নাইটিংগেল মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ের সামনে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা স্বৈরাচার বিরোধী তীব্র স্লোগানে পুরো পল্টন এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী অত্যন্ত কড়া ভাষায় পতিত শক্তির উদ্দেশ্যে বলেন:

“বাংলাদেশে আর কোনোদিন পতিত ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। বিগত ১৬ বছরে দেশ থেকে পাচার করা হাজার হাজার কোটি কালো টাকা দিয়ে এই পতিত শক্তি আবারও নতুন বাংলাদেশে বসে দেশকে অস্থিতিশীল ও সাবোটাজ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, চব্বিশের বিপ্লবের পর দেশের জনগণ আজ সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ। জনগণকে সাথে নিয়ে এই ধরণের সমস্ত সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও উসকানি রাজপথেই কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে। দেশকে আর কোনোভাবেই দিল্লির গোলাম বা দাস বানানো যাবে না।”

রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরগুলোকে নস্যাৎ করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার জন্য স্বৈরাচারের দোসররা উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা বিগত দেড় দশক ধরে দেশের গণতন্ত্রকে জবাই করেছে, হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের সাথে এই নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরণের রাজনৈতিক সহাবস্থান হতে পারে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের দাঁতভাঙা জবাব দিতে জাতীয়তাবাদী দল ২৪ ঘণ্টা রাজপথে ‘স্ট্যান্ডবাই’ রয়েছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *