ধানমন্ডি ৩২-এ বিক্ষোভের পর সাংবাদিকদের ওপর হামলা, দুঃখ প্রকাশ জামায়াত নেতার

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেনা ছকের মাঝেই সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। আজ ২৩ জুন (মঙ্গলবার) সকালে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য যেকোনো ঝটিকা মিছিল বা নাশকতা প্রতিহত করতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের চারপাশের বিভিন্ন রাস্তায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

মিছিলজুড়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী নানামুখী তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়। তবে মিছিলের শেষ পর্যায়ে সেখানে দায়িত্ব পালনরত ও ফুটেজ নিতে যাওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের হঠাৎ করেই ‘পতিত স্বৈরাচারের দোসর’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন কিছু কর্মী। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত চড়াও হয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। জামায়াত কর্মীদের এই আকস্মিক হামলায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ও ক্যামেরা পারসন শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত হন। পরে অন্যান্য সাংবাদিক ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

সাংবাদিকদের ওপর জামায়াত কর্মীদের এই বর্বরোচিত হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব।

পরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্রতা ও ক্ষোভ প্রশমন করতে জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর দুঃখপ্রকাশ করেন। ইটিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন:

“ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সাংবাদিকদের সাথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। জামায়াতে ইসলামী সবসময় স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের প্রাথমিক ধারণা, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো ‘তৃতীয় পক্ষের’ গভীর ইন্ধন ও উসকানি রয়েছে, যারা জামায়াত ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নতুন বাংলাদেশে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।”

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার আগে ধানমন্ডি ৩২-এর বিভিন্ন রাস্তায় মিছিল করার সময় জামায়াত নেতারা অভিযোগ তোলেন যে, দেশের একটি বিশেষ বড় রাজনৈতিক দল পর্দার আড়াল থেকে পতিত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জামায়াতের কর্মীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে খুনি হাসিনাকে বা তার দলকে এই দেশে আর কোনোদিন পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে রাজপথেই তা প্রতিহত করা হবে।

এদিকে, ধানমন্ডি ও এর আশপাশের এলাকায় কোনো ধরণের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন অবনতি না ঘটে, সেজন্য সকাল থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও র্যাব। সকাল থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বা ধানমন্ডি লেকের আশেপাশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি, জমায়েত কিংবা কোনো ঝটিকা মিছিলের দেখা মেলেনি।

এর আগে পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সশরীরে পরিদর্শনে আসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে স্পষ্ট করে বলেন, “রাজধানীর প্রতিটি জোনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কোনো দল বা গোষ্ঠীকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না এবং নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *