প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং (Press Wing) সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতেই চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) আসন্ন ২০২৬-২০২৭ সেশনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘সভাপতি’ (President) পদে বাংলাদেশের খ্যাতিমান কূটনৈতিক ড. খলিলুর রহমান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের নতুন সরকার, দেশের জনগণ এবং প্রধানমন্ত্রীকে গণচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে দেশের ক্রমবর্ধমান মর্যাদাকেই প্রমাণ করে বলে চীনা রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিশেষ করে যে ক্ষেত্রগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, সেগুলো হলো:

  • ব্যবসা-বাণিজ্য ও শুল্কমুক্ত সুবিধা: চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে কথা হয়।
  • মেগা বিনিয়োগ: বাংলাদেশের বিভিন্ন আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাই-টেক পার্ক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের নতুন বড় বিনিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়।
  • কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা: বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (4IR) উপযোগী করে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষা ও আইটি (IT) খাতে বেইজিংয়ের পূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
  • পিপল-টু-পিপল কনট্যাক্ট: দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, স্কলারশিপ ও সংস্কৃতি বিনিময়ের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর দুই নেতাই একমত পোষণ করেন।

উচ্চ-পর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি তথা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বা পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *