ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে (বিদ্ধস্ত মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির ‘বিবি’) নিয়ন্ত্রণ করা বা সামলানো বর্তমান বিশ্বের কারোর পক্ষেই সম্ভব নয় এবং তিনি মূলত সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে বা পৃথিবী ধ্বংস করতে চান। নিজের অতি গোপনীয় ও ব্যক্তিগত উপদেষ্টাদের কাছে ক্লোজড-ডোর বৈঠকে ঠিক এভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অভ্যন্তরীণ মন্তব্যের বিষয়ে সরাসরি অবগত—এমন একটি নির্ভরযোগ্য ও উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে আমেরিকার অত্যন্ত প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ (The Wall Street Journal) এই চাঞ্চল্যকর খবরটি বিশ্বের সামনে ফাঁস করে দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে এই চাঞ্চল্যকর গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ওই সংবাদমাধ্যমটিকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে জানিয়েছেন যে, ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘চমৎকার’ মনে করেন। তবে ট্রাম্প এটুকুও স্বীকার করেছেন যে—মাঝেমধ্যে নেতানিয়াহু নিজের অতি আবেগের বশে এবং পলিটিক্যাল প্রেসারের কারণে একটু বেশি দূর বা সীমার বাইরে এগিয়ে যান।
মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের ভেতরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাথে ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক টেলিফোনিক আলাপচারিতাগুলো সাধারণত নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে আরও বেশি নতুন নতুন দেশে সামরিক অভিযান, স্থল হামলা পরিচালনা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবির ওপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হতো। মার্কিন নেতা সময়ের সাথে সাথে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে বারবার এই একই ধরনের যুদ্ধবাদী ও আগ্রাসী অনুরোধ শুনতে শুনতে ভেতরে ভেতরে মারাত্মকভাবে বিরক্ত এবং কিছুটা ক্লান্ত (Tired) হয়ে পড়েছেন।
ওই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের ওয়ান-টু-ওয়ান কথোপকথনের বিবরণ দিয়ে আরও বলেন:
“বিবি (নেতানিয়াহু) মূলত টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রতিবার লম্বা লেকচার দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে—কেন তাকে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ বা সুনির্দিষ্ট কোনো অবকাঠামো বোমায় উড়িয়ে দিতে হবে। একই সাথে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ (Mossad) ও সামরিক বাহিনী এটি করার সঠিক উপায় এবং উপযুক্ত সময় সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের চেয়েও অনেক ভালো জানে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাধ্য হয়ে মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন।”
তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই বিশ্বনেতার মধ্যকার ফোনালাপগুলো সাধারণত প্রতিবারই একই চেনা ছকের বা একই ধাঁচের হতো, যেখানে ইসরায়েলের তীব্র ও অবিরাম আগ্রাসী মনোভাবই নগ্নভাবে প্রকাশ পেত।
