ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন (পুশব্যাক) প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ইতিমধ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের জাতীয়তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বেশ কিছু তালিকা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন,
“ভারতে অবস্থানরত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি অবৈধভাবে এখানে বসবাস করেন—যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত—তবে তাদের মোকাবিলায় আমাদের সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে এবং সেই আইন অনুযায়ীই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরণের অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক আইনি কাঠামো কার্যকর রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তালিকাগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “আমরা এই তালিকাগুলো বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাই যাতে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা যাচাই করতে পারে। যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়ে গেলেই ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
ভারত আশা করছে, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এই আবেদনগুলো যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করবে, যাতে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠু, দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়।
এদিকে ভারতের এই কঠোর অবস্থানের পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে জোরপূর্বক পুশইন (বাংলাদেশে পুশব্যাক বা ঠেলে দেওয়া) করার ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সীমান্তবর্তী নদী ও স্থল এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
