ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: তপুর জোড়াগোলে চূর্ণ সান মারিনো

দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়টি লেখা হলো ইউরোপের দেশ সান মারিনোর মাটিতে। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) রাতে স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আর এই অবিস্মরণীয় রূপকথার মহানায়ক রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী তপুবর্মণ।

এই ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশ দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। দায়িত্ব নেওয়ার পর দল গোছাতে বা অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেলেও ডাগআউটে নিজের প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত করেছেন এই কৌশলবিদ। শুরুর একাদশে শমিত সোম বা জায়ান আহমেদের মতো তারকাদের বেঞ্চে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর নিখুঁত পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই সান মারিনোকে চেপে ধরে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ।

  • ১৯ মিনিট (): ডান প্রান্ত থেকে তরুণ তুর্কি শেখ মোরসালিনের নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ। উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারির প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
  • ৩১ মিনিট (): বেশি সময় লিড ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। সান মারিনোর বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। সুযোগ বুঝে নিখুঁত শটে গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জাকোপেত্তি।

৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল পোস্টের ওপর দিয়ে মারলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়।

বিরতির পর শমিত সোম ও জায়ান আহমেদ মাঠে নামলে বাংলাদেশের আক্রমণে গতি বাড়ে। হামজা চৌধুরী মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এক হাতে তুলে নেন। একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল আসছিল না। অবশেষে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। হামজা চৌধুরীর নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল পান বিশ্বনাথ ঘোষ। বিশ্বনাথের জোরালো সাইড ভলি তপু বর্মণের মাথায় লেগে সান মারিনোর জাল কাঁপায় (২-১)। নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে মাতেন তপু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *