সন্ধ্যার মধ্যে ৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যার মধ্যে দেশের অন্তত ৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। সম্ভাব্য এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

লঘুচাপ আরও শক্তিশালী হতে পারে

আবহাওয়া অধিদফতরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে এবং অনুকূল পরিবেশ পেলে এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌসুমি বায়ু সক্রিয়

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পূর্ব রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় এটি মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

যেসব বিভাগে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা

সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু স্থানে এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-একটি এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু তাই নয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারী বর্ষণের ফলে নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কয়েকটি জেলায় এখনো তাপপ্রবাহ

বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে এখনো মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।

তবে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে এসব এলাকার তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাপমাত্রায় আসতে পারে পরিবর্তন

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া অস্থিতিশীল থাকতে পারে। তাই বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া, নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানের চালক, জেলে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিন নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে, সেখানে নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পরবর্তী বুলেটিনে নতুন তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *