পাকিস্তানের লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের আত্মীয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুহাম্মদ রাজা দার, হাসান রাজা, সিকান্দার খান ও সাজিদ আলী। বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলার পর শুক্রবার (৪ জুলাই) তাদের লাহোরের একটি আদালতে হাজির করা হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। মামলার আরেক সন্দেহভাজন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ২৯ জুন লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে একটি স্থানে আটকে রেখে তাদের ওপর সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের একজন নেদারল্যান্ডসের এবং অন্যজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক।
ঘটনার বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসে, যখন ভুক্তভোগীদের একজনের বাবা স্পেন থেকে পাকিস্তান পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানান। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে উদ্ধার করে এবং তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৬৫এ (অপহরণ) এবং ৩৭৫এ (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) ধারায় রুজু করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধান অভিযুক্ত মুহাম্মদ রাজা দারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar-এর আত্মীয় হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। অভিযোগে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের একজন সদস্যের আত্মীয়ের নাম আসায় তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনের আওতায় সকল অভিযুক্তকে আনতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই নারী ২০২৫ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে মুহাম্মদ রাজা দারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা তিনজনই একটি ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই ব্যবসায়িক সম্পর্কের ভিত্তিতেই রাজা দার দুই নারীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং তাদের জন্য ব্যবসায়িক ভিসার ব্যবস্থা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, লাহোরে পৌঁছানোর পর তাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এরপর সংঘবদ্ধভাবে যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবিরও চেষ্টা করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে দুই ভুক্তভোগী নারী প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মুহাম্মদ রাজা দারকে শনাক্ত করেন। এই শনাক্তকরণ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা আলামত, ডিজিটাল তথ্য, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে পুরো ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
