চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চাকপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কয়েক দফা সীমান্তের আলো (ফ্লাডলাইট) বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে পুশইনের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মধ্যরাতে লাঠিসোঁটা ও টর্চলাইট হাতে সীমান্ত এলাকায় পাহারায় নামেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। একই সঙ্গে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি জোরদার করে সতর্ক অবস্থান নেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার চাকপাড়া সীমান্তে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রাতের একপর্যায়ে বিএসএফ হঠাৎ সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ভারতের অভ্যন্তরে কয়েকজন নারী-পুরুষকে শূন্যরেখার কাছে নিয়ে আসা হয়েছে। এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই সম্ভাব্য পুশইনের আশঙ্কায় সীমান্তসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত টর্চলাইট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে একাধিকবার একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তারা কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি। তাই রাতভর সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন তারা।
তবে রাত ১২টা পর্যন্ত কয়েক দফায় সীমান্তের আলো বন্ধ থাকলেও কোনো ধরনের পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপারে বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা দলকে দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন, “কাউকে পুশইনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। সীমান্তে লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে বিএসএফ কাউকে পুশইন করতে পারে। এ কারণে স্থানীয়রা সীমান্তে অবস্থান নিয়েছেন। বিজিবিও চাকপাড়া সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে।”
এর আগে গত জুন মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি সীমান্ত দিয়ে চার দফায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৬৪ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে বিজিবি সূত্রে জানা যায়। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য ও সহযোগিতায় বিজিবি সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়।
এছাড়া গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিএসএফ ১২ জনকে ভারতের সীমান্ত এলাকায় এনে ফ্লাডলাইট বন্ধ করে রেখেছিল। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয় বলে জানা যায়।
সীমান্ত এলাকায় নতুন করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও বিজিবি জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
