‘আমাদের সময় চরিত্রের প্রস্তুতির সুযোগই ছিল না’ অমিতাভ বচ্চন

ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় নিজের অনন্য উপস্থিতি ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এবার তুলে ধরেছেন চলচ্চিত্র জগতের বদলে যাওয়া বাস্তবতা। তার মতে, বর্তমান সময়ের অভিনয়শিল্পীরা একটি চরিত্রের জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান, তা তাদের প্রজন্মের কাছে ছিল অকল্পনীয়।

সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশিত এক দীর্ঘ লেখায় অমিতাভ বচ্চন বলেন, একসময় চলচ্চিত্র জগতে ‘প্রস্তুতি’ বা প্রিপারেশন শব্দটির তেমন কোনো অস্তিত্বই ছিল না। বর্তমানে একটি চরিত্রে নিজেকে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে অভিনেতারা যে সময়, গবেষণা ও শ্রম ব্যয় করেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

তিনি লেখেন, “আমাদের কিংবা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ‘প্রস্তুতি’ শব্দটির কোনো ব্যাখ্যাই ছিল না। এখন এটি চলচ্চিত্র শিল্পের একটি স্বাভাবিক ও অপরিহার্য অংশ। একটি চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শিল্পীরা তাদের চেহারা, পোশাক, আচরণ, ভাষা ও মানসিকতা নিয়ে গভীরভাবে কাজ করেন। এই পেশাদারিত্ব আমাকে মুগ্ধ করে।”

অমিতাভ বচ্চনের মতে, আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণে চরিত্র বিশ্লেষণ, কর্মশালা এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা অভিনয়ের মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তিনি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের এই নিবেদন ও পেশাদার মনোভাবের প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান সময়ের এই কর্মপদ্ধতি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং সৃজনশীলতার জন্য ইতিবাচক।

একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি ছবিতে কাজ করতেন

নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিনের কথা স্মরণ করে বলিউড শাহেনশাহ জানান, তখনকার সময়ে একজন অভিনেতাকে একই সঙ্গে অনেকগুলো ছবিতে অভিনয় করতে হতো।

তিনি বলেন, “সেই সময় আমরা একসঙ্গে ১০ থেকে ১৫টি ছবিতে কাজ করতাম। এমনও হয়েছে, একই দিনে দুই বা তিনটি ভিন্ন ছবির শুটিং করেছি। একটি ছবির চরিত্র শেষ করে আরেকটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে হতো। ফলে আলাদা করে কোনো চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগই থাকত না।”

অমিতাভের ভাষায়, সে সময়ের কাজের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে অভিনয়ের আগে দীর্ঘ পরিকল্পনা বা চরিত্র বিশ্লেষণের সুযোগ প্রায় ছিল না বললেই চলে।

কাজ হারানোর ভয়ও ছিল বড় বাস্তবতা

একদিনে একাধিক ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় কীভাবে সম্ভব হতো—এমন প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন তিনি।

অমিতাভ বচ্চন বলেন, “ভাই সাহেব, কাজ না করলে ভবিষ্যতে আর সুযোগ পাব কি না—এই ভয় সব সময় কাজ করত। তাই পরিচালক যা নির্দেশ দিতেন, আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেটাই পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতাম।”

তিনি আরও জানান, শুটিং শেষ হওয়ার পর অভিনেতাদের অনেক সময় মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো সিনেমা মুক্তির জন্য। এরপর পর্দায় নিজেদের অভিনয় দেখে বোঝার চেষ্টা করতেন, চরিত্রটি কতটা সফলভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন।

সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরণ

বলিউডের এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতি, নির্মাণশৈলীর পরিবর্তন এবং দর্শকের প্রত্যাশা—সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্র শিল্প আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিকল্পিত ও গবেষণানির্ভর।

তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অভিনয়শিল্পীদের কাজের ধরনও বদলেছে। তবে তিনি অতীতের কঠিন বাস্তবতার পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের প্রস্তুতি ও পেশাদারিত্বকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *