বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস ও মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় বাসের পাঁচজন যাত্রী এবং ট্রাকের চালক ও হেলপার আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে বরগুনার পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আলিফ পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাটাজোর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বাস ও ট্রাক—উভয় যানবাহনের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এবং হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
উদ্ধারকারীরা আহতদের বাস ও ট্রাক থেকে বের করে দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আহতদের প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পর বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোহসীন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার এবং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
তিনি বলেন, “দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। বাস ও ট্রাকের গতি, চালকদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন এই পথে শত শত দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ফলে সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ওভারটেকিংয়ে সতর্কতা অবলম্বন, যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং মহাসড়কে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘপথে চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করাও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের এই অংশে অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করা।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সড়কে যানজটের সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা।
দুর্ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে হাইওয়ে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
