২০২৬ সালের এই মেগা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘সির সির’ গানটি পরিবেশন করে গ্লোবাল চার্টবাস্টারে জায়গা করে নিয়েছিল সঞ্জয়-নোরা জুটি। সেই অভূতপূর্ব সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই, বিশেষ করে টুর্নামেন্টটি যখন নকআউট বা শেষ ৩২ দলের (Round of 32) চরম উত্তেজনাকর পর্বে প্রবেশ করেছে, ঠিক তখনই ফুটবলপ্রেমীদের গায়ের লোম খাড়া করতে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটি নিয়ে আসছেন তারা। ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় গানটির প্রথম ঝলক বা টিজার রিলিজ হওয়ার পর থেকেই ভক্তদের মাঝে উন্মাদনা তুঙ্গে।
‘চ্যাম্পিয়ন কেবল খেলার গান নয়, এটি বিজয়ের অনুভূতি’—সঞ্জয়
নতুন এই বিগ-বাজেট প্রজেক্টের গানটির কথা, সুর সংযোজন এবং সম্পূর্ণ সঙ্গীত পরিচালনার মূল দায়িত্বটি একাই সামলেছেন প্রতিভাবান প্রতিভাধর মিউজিশিয়ান সঞ্জয় দেব। তবে কেবল পর্দার পেছনেই নয়, এই গানে নোরা ফাতেহির সাথে কণ্ঠ মিলিয়েছেন সঞ্জয় নিজেও।
গানটির মূল থিম বা দর্শন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় দেব ইটিসি বাংলাকে জানান:
“‘চ্যাম্পিয়ন’ শব্দটিকে আমরা কেবল মাঠের ফুটবল বা কোনো নির্দিষ্ট খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। এই গানটি আসলে জীবনের যেকোনো কঠিন ক্ষেত্র, ব্যক্তিগত সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং যেকোনো বড় অর্জনকে উদ্যাপনের এক চিরন্তন বার্তা বহন করবে। আমরা চাই বিশ্বজুড়ে মানুষ যখনই এই গানটি শুনবে, তখনই যেন ভেতরে একটি ইতিবাচক শক্তি ও বিজয়ী হওয়ার অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা পায়।”
নোরার ফেসবুক পোস্ট ও তানজানিয়ার জানজিবারে রুদ্ধশ্বাস শুটিং
নতুন গানটি প্রকাশের ঠিক আগে বলিউড ডান্সিং কুইন নোরা ফাতেহি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ভক্তদের উদ্দেশে একটি রহস্যময় পোস্ট দিয়ে লেখেন, “বন্ধুরা, তোমরা সবাই চ্যাম্পিয়নের জন্য প্রস্তুত তো?” (Are you guys ready for Champion?)। নোরার এই এক লাইনের পোস্টের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তাঁর কোটি ভক্তের মাঝে গানটি নিয়ে তীব্র কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, এই মিউজিক ভিডিওটির ক্যানভাস বড় করতে কোনো কমতি রাখেননি নির্মাতারা। প্রায় দীর্ঘ দুই মাস সময় নিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ‘চ্যাম্পিয়ন’ গানটির অডিও মিক্সিং ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ করা হয়েছে। এরপর পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার বিশ্ববিখ্যাত পর্যটন দ্বীপ জানজিবার (Zanzibar)-এর নৈসর্গিক ও চোখধাঁধানো সমুদ্রসৈকতে গানটির ভিডিও ধারণ করা হয়। দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে জানজিবারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানে মাত্র এক দিনের চরম ব্যস্ত শিডিউলে পুরো ভিডিওর শুটিং শেষ করেন সঞ্জয় ও নোরা। ভিডিওটিতে সঞ্জয় ও নোরার গ্ল্যামারাস পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জানজিবারের স্থানীয় আফ্রিকান নৃত্যশিল্পী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি গানটিতে এক অনন্য আদিম ও বৈশ্বিক মাত্রা যোগ করেছে।
