নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে পরবর্তী এক দশক ঢালিউড কাঁপানো অন্যতম সেরা ও গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অন্তর্ধানে থাকা এবং হুট করে আড়ালে চলে যাওয়া নিয়ে চলচ্চিত্র পাড়ায় নানা গুঞ্জন ও কৌতূহল ছিল। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান পারিবারিক জীবনের সুখবর দেওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ে ফেরার এই একমাত্র শর্তের কথা জানিয়েছেন তিনি।
নিজের বর্তমান পারিবারিক জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে পপি জানান, বর্তমানে তিনি স্বামী ও তাঁর একমাত্র সন্তান ‘আয়াত’-কে নিয়ে এক সুখে-শান্তির ছায়ায় দিন কাটাচ্ছেন। এই সুখী দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনই এখন তাঁর জীবনের প্রধানতম অগ্রাধিকার।
চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করার ব্যাপারে পপি বলেন:
“এখন আমার পুরো মনোযোগ পরিবার ও সন্তানের দিকে। চলচ্চিত্র পাড়া থেকে এখনও আমার কাছে অসংখ্য নতুন কাজের ও সিনেমার অফার আসে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলোতে যুক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। তবে হ্যাঁ, নিজের জীবন নিয়ে যদি গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণানির্ভর কোনো নিখুঁত বায়োপিক তৈরি করা হয়, তাহলে সেই সিনেমাতে অভিনয় করতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
নিজের জীবনের গল্প সেলুলয়েডের ফিতায় বন্দি করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্তও জুড়ে দিয়েছেন এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী তারকা। তিনি বলেন, “দেশে এবং দেশের বাইরে এখনও আমার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রয়েছেন, যারা আমাকে ভালোবাসেন। তাই আমার জীবনভিত্তিক সিনেমার চিত্রনাট্য (Script) হতে হবে অত্যন্ত শক্তিশালী। যেখানে আমার শৈশব, খুলনায় বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, নতুন কুঁড়ি ও লাক্স-আনন্দবিচিত্রা ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, তারকা হওয়ার পেছনের ব্যক্তিগত ও মানসিক সংগ্রাম এবং ঢালিউডের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নানা অজানা অধ্যায় যথাযথভাবে ও সততার সাথে তুলে ধরা হবে, তবেই আমি কাজটির কথা বিবেচনা করব।”
গুণী ও প্রখ্যাত নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত হিট সিনেমা ‘কুলি’-তে চিত্রনায়ক ওমর সানীর বিপরীতে প্রধান নায়িকা হিসেবে ঢাকাই সিনেমায় পা রেখেছিলেন পপি। প্রথম সিনেমাতেই ঢালিউড বক্স অফিসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে নিজের অবস্থান পাকা করেন তিনি। এরপর রিয়াজ, শাকিল খান, মান্না ও শাকিব খানের সাথে একের পর এক অসংখ্য ব্যবসাসফল ও ক্লাসিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।
অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্যারিয়ারে তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পপি:
- ২০০৩ সাল: কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার পান।
- ২০০৮ সাল: নারগিস আক্তারের পরিচালনায় বহুল প্রশংসিত ‘মেঘের কোলে রোদ’ সিনেমার জন্য দ্বিতীয়বার এই গৌরব অর্জন করেন।
- ২০০৯ সাল: সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত সামাজিক ঘরানার কালজয়ী সিনেমা ‘গঙ্গাযাত্রা’-তে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তৃতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।
