মেসিকে নয়, দলের সাফল্যেই মনোযোগ এমবাপ্পের; জানালেন নিজের ভাবনা

ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে নাটকীয় আবহাওয়া ও দীর্ঘ বিরতির ধাক্কা সামলে ইরাককে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো (নকআউট পর্ব) নিশ্চিত করেছে বর্তমান রানার্স-আপ ফ্রান্স। ফরাসিদের এই দাপুটে জয়ের রাতে স্পটলাইটে ছিলেন দলের প্রধান অস্ত্র কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি একাই করেছেন জোড়া গোল। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসির সাথে চলমান গোল-দ্বৈরথ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

সাবেক পিএসজি সতীর্থ ও আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির ভূয়সী প্রশংসা করে কিলিয়ান এমবাপ্পে অত্যন্ত পরিপক্কতার সাথে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন:

“লিও (মেসি) কী করে সেটা যদি আমি প্রতি ম্যাচে ট্র্যাক করা শুরু করি, তবে আমাকে মাঠে ও অনুশীলনে আরও অনেক বেশি কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। লিও সবসময় গোল করে; সে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এটা করেছে এবং ভবিষ্যতেও সবসময় করবে। আমি মেসির রেকর্ডের দিকে বা তার পারফরম্যান্সের দিকে একদমই মনোযোগ দিই না। আমি কেবল আমার দল ফ্রান্সকে জেতাতে এবং মাঠে সর্বোচ্চ সাহায্য করার কথাই ভাবি।”

ইরাকের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের জাতীয় দলের জার্সিতে কিলিয়ান এমবাপ্পের ক্যারিয়ারের ১০০তম (শততম) আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর এই বিশেষ ম্যাচটিকে জোড়া গোল দিয়ে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের বিশ্বরেকর্ডে সমতা এনেছেন। বর্তমানে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির চেয়ে এমবাপ্পে মাত্র ২টি গোল পিছিয়ে আছেন। যে বিদ্যুৎগতিতে ফরাসি তারকা ছুটছেন, তাতে এই বিশ্বকাপেই তিনি মেসির রেকর্ড ভেঙে এককভাবে চূড়ায় বসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে তথা গত জানুয়ারি মাসে ক্লাব ফুটবলে একটি গুরুতর ইনজুরির (চোট) শিকার হয়েছিলেন এমবাপ্পে। সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে নিজের সেরা ফর্ম প্রদর্শন নিয়ে তিনি বলেন, “আমি এখন শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে শতভাগ সেরা অবস্থায় ফিরে এসেছি। সবাই জানে একজন ফুটবলারের জীবনে বিশ্বকাপের মঞ্চ কতটা অর্থবহ।”

এর পাশাপাশি ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচ চলাকালীন আমেরিকার বিখ্যাত টর্নেডো বা ভয়াবহ ঝড়ের কারণে খেলা মাঝপথে টানা দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার ধকল নিয়েও কথা বলেন এমবাপ্পে। তিনি জানান:

“ড্রেসিংরুমে দীর্ঘ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা আটকে থাকা এবং তীব্র নার্ভাস ও আবেগের মুহূর্তে ম্যাচের ফোকাস ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন ও মানসিক চাপের বিষয় ছিল। রাতটি অনেক দীর্ঘ ছিল, কিন্তু জটিল পরিস্থিতি জয় করে শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ৩ পয়েন্ট ও শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *