বিচারের ধীরগতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদ: আগামীকাল রাজধানীতে ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একচেটিয়া নীতি ও দেশ পরিচালনায় ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে রাজধানী ঢাকায় রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। আগামীকাল ২৩ জুন (মঙ্গলবার) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ন মোড়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আজাদ এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ সরকারের নীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন:

“৫ আগস্টের চব্বিশের বিপ্লবের পর যে জুলাই গণহত্যার বিচার শুরু হয়েছিল, তা অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে দুর্বল ও ধীরগতিতে চালানো হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর ও খুনিরা এখনো প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার ফলে শহীদ পরিবারগুলো বিচার পাওয়া নিয়ে চরম সন্দিহান হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে দেশে নতুন মোড়কে ফ্যাসিবাদের পুরোনো প্রবণতা এবং একদলীয় আধিপত্য ফিরে আসার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং একক আধিপত্য বজায় রাখতে বিএনপির মধ্যে জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার অতীত প্রবণতা আবারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সরকার যদি অবিলম্বে নিজেদের ভুল শুধরে সর্বদলীয় ঐক্যের পথে না হাঁটে, তবে চলমান এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করে রাজপথ অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামীকাল বিজয়নগরের সমাবেশ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি বা ‘গণ-অভ্যুত্থানবর্ষ’ ঘিরে মাসব্যাপী দেশব্যাপী নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করবে এই জোট। একই সাথে ঢাকার এই সমাবেশের ধারাবাহিকতায় আগামী ৪ জুলাই (শনিবার) দেশের প্রতিটি জেলা শহরে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

জোটের শীর্ষ নেতারা বলেন, বর্তমান প্রশাসন দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ আজ নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। চরাঞ্চলে নদীভাঙন, বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আর রাজপথে বিরোধী মতের ওপর হামলা—সব মিলিয়ে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের জনগণই এই সরকারের ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *