চীন মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইরান সংকটকে কেন্দ্র করে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের শুরুতে ইরান-এ মিত্র সরকার টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার টিকে যাওয়ায় বেইজিং নতুন কৌশলগত সুবিধা অর্জনের পথে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাসের সংঘাত ও আলোচনার পর মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সরকার টিকে গেছে এবং একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে সমঝোতার পথে আসতে হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চীন নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সংলাপের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখার বিষয়টি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
ওয়াং ই-এর নেতৃত্বে বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদেরকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবেও উপস্থাপন করছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সংকট যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সম্ভাব্য ‘সুয়েজ মুহূর্ত’-এর মতো হতে পারে, যেখানে একটি আঞ্চলিক সংঘাত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে। তবে চীন সত্যিই বৈশ্বিক নেতৃত্বে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারবে কি না, তা নির্ভর করবে তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার ওপর।
