ইরানের সঙ্গে কারিগরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবেন স্টিভ উইটকফ

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে গত বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) এক ঐতিহাসিক অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির পর এবার পরবর্তী বাস্তবায়নমুখী পদক্ষেপ ও ১৪ দফার পুঙ্খানুপুঙ্খ চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘কারিগরি আলোচনা’ শুরু হতে যাচ্ছে। আর এই সংবেদনশীল ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের জামাতা এবং হোয়াইট হাউসের সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও (Jared Kushner) এই সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ নিতে স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন।

হোয়াইট হাউস ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি গত শুক্রবারই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিক ওই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে হঠাৎ সামরিক সহিংসতা ও রকেট হামলা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবারের নির্ধারিত বৈঠকটি আকস্মিকভাবে বাতিল বা স্থগিত করা হয়।

বৈঠক স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের অত্যন্ত নিরাপদ ও বিলাসবহুল বার্গেনস্টক রিসোর্টে (Bürgenstock Resort) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যাতে দ্রুত টেবিলে বসতে পারেন, সেজন্য সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক ও কারিগরি প্রস্তুতি পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৪ জুন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটাতে একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের একটি বড় অংশ মনে করে, পর্দার আড়ালে থেকে ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটি সফলভাবে চূড়ান্ত করার মূল কৃতিত্ব স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের। এই দুই অভিজ্ঞ কূটনীতবিদই এর আগে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন ও প্রাথমিক আলোচনার পথ সুগম করেছিলেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance) আপাতত এই কারিগরি আলোচনার প্রাথমিক পর্বে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না। তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে, সুইজারল্যান্ডের মূল রাজনৈতিক আলোচনা বা চুক্তি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট যেকোনো মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড সফরে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

“যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পরমাণু ও সামরিক সমঝোতার সার্বিক প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। আলোচনার সূচি ও পরিকল্পনা এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত না হলেও, যত দ্রুত সম্ভব বার্গেনস্টক রিসোটে কারিগরি পর্যায়ের সংলাপ শুরু করার ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ১৪ দফার বিস্তারিত বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *