যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ছয় মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী সৌদি আরবের তিনটি সুপার ট্যাংকার যাত্রা করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সৌদি আরবের বন্দরগুলো থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে এটি সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজ বহরের যাত্রা। প্রতিটি ট্যাংকারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী ব্যবহার সীমিত করে লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু টার্মিনালের মাধ্যমে তেল রপ্তানিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতেই এ কৌশল অনুসরণ করা হয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের এই বৃহৎ তেলবাহী বহরের যাত্রাকে বাজারে আস্থা ফিরে আসার একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি কার্যকর থাকলে এবং প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল বজায় থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল হবে এবং তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
