স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, দীর্ঘ দুই দশক ধরে উন্নয়নবঞ্চিত থাকা বগুড়াকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ শুরু করেছে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন মহল থেকে ষড়যন্ত্র চলছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ইস্যুকে সামনে এনে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় অবস্থিত শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই বগুড়া জেলা গত ২০ বছর ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ছিল। উন্নয়নের কথা বলার সুযোগও আমরা অনেক সময় পাইনি। বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি চেষ্টা করলেও জেলা হিসেবে বগুড়াকে সবসময় বঞ্চনার চোখে দেখা হয়েছে। এখন যখন আমরা বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে বাস্তব কাজ শুরু করেছি, তখন নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এসব অপচেষ্টা সফল হবে না। বগুড়ার উন্নয়নে যেসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, তার একটিও বন্ধ হবে না।”
মীর শাহে আলম জানান, বগুড়ার উচ্চশিক্ষার প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আজই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। এটি বগুড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকার বগুড়ার উন্নয়নের জন্য যেসব পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য জনগণের ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ভুলত্রুটি থাকলে অবশ্যই সমালোচনা হবে। গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনার সুযোগ থাকতে হবে। তবে সেই সমালোচনা যেন তথ্যভিত্তিক, আইনসম্মত এবং গ্রহণযোগ্য হয়। ভিত্তিহীন প্রচারণা কিংবা বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী সবাইকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা অনেকেই হয়তো ভুলে গেছি যে জুন মাস চলছে। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মানুষের, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের এবং প্রশাসনের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দিয়ে তারা মাঠে নামার চেষ্টা করতে পারে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান শিশু হাসপাতালের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালটির ছয়তলা ভবন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আটতলায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইচ্ছা ছিল এই হাসপাতালকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা। হাসপাতালের পাশের ভবন ও জায়গা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।”
তিনি আরও জানান, পাশের জমি সরকারি হলে তা হাসপাতালের কাজে ব্যবহার করা হবে। আর যদি ব্যক্তিমালিকানাধীন হয়, তবে প্রয়োজন হলে অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
“আমাদের লক্ষ্য ৫০ শয্যার এই শিশু হাসপাতালকে ১০১ কিংবা ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা। আগামী বছরের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন এবং বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আহসানুল তৈয়ব জাকিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বগুড়ার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
