জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপি সদস্যদের ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে উল্লেখ করতে আপত্তি তোলার সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাহিদ ইসলাম। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “সংসদে ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে আর কোথায় বলব?”
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি বিভিন্ন সংসদ সদস্যের ঋণখেলাপির তথ্য ও সংখ্যা উল্লেখ করেছিলেন, যদিও সম্মানের খাতিরে কারও নাম প্রকাশ করেননি। তাঁর ভাষ্য, যেসব রাজনৈতিক দল ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে, তাদেরই এ দায় বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, “যদি সংসদে এত সংখ্যক ঋণখেলাপি সদস্য থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এটিকে ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবে। সরকারদলীয় সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে গঠিত এই সংসদে যদি ঋণখেলাপিরা থাকেন, তাহলে জনগণের এমন মন্তব্য অস্বাভাবিক নয়।”
সংসদের সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “আমরা সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করি। যদি এখানে ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলা না যায়, তাহলে কোথায় বলা যাবে?”
এর আগে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ, যা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোতে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সংসদের মর্যাদা অনেক বেশি। তাই আমাদের বক্তব্যে এমন কিছু বলা উচিত নয়, যা সংসদের সম্মান ক্ষুণ্ন করে।”
ফজলুল হক মিলন আরও বলেন, “বাংলা ভাষায় একটি প্রবাদ আছে—‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায়, সেই ক্ষেত টেকে না।’ আমরা নিজেরাই যদি সংসদের মর্যাদা নষ্ট করি, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আইন অনুযায়ী একজন ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সেক্ষেত্রে এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা কীভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে?”
তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ ধরনের মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
বাজেট অধিবেশনে ঋণখেলাপি ইস্যুতে নাহিদ ইসলাম ও ফজলুল হক মিলনের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
