মাঠে নেমেই বিশ্বরেকর্ডের পাতায় সুইডেনের সভানবার্গ

ক্রিকেট মাঠে ব্যাটের কানায় বল লেগেছে কি না, তা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতে ‘স্নিকো’ (Snicko) প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এই স্নিকো প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো গোলের বৈধতা দেওয়া হবে—তা হয়তো চরম ফুটবলপ্রেমীরাও কখনো কল্পনা করেননি। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের ম্যাচে ঠিক এই অভাবনীয় নাটকীয়তাই দেখল বিশ্ববাসী। আর এই প্রযুক্তি-নাটকের কল্যাণে বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক অনন্য রেকর্ডবুকে ঢুকে গেছেন সুইডিশ বদলি মিডফিল্ডার মাটিয়াস সভানবার্গ।

ম্যাচের ৮৪ মিনিটে এক চোখধাঁধানো শটে তিউনিসিয়ার জালে বল পাঠিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন মাটিয়াস সভানবার্গ। তবে মাঠের লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে গোলটি বাতিল করে দেন। এর পরই শুরু হয় প্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ।

ক্রিকেটের স্নিকোমিটারের মতো ফুটবলের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) প্রযুক্তিতে দেখা যায়, সভানবার্গের কাছে বলটি পৌঁছানোর ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর সতীর্থ আলেকসান্দার ইসাকের বুটকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ও হালকা ছোঁয়ায় স্পর্শ করেছিল। খালি চোখে রেফারি বা দর্শকদের কারও পক্ষেই এই বলের ঘূর্ণন বা গতিপথের পরিবর্তন ধরা সম্ভব ছিল না। কিন্তু ভিএআর স্ক্রিনে বল ও বুটের ওই মাইক্রো-কন্টাক্ট বা স্পর্শ ধরা পড়ায় অফসাইডের সিদ্ধান্ত বাতিল হয় এবং ঐতিহাসিক গোলটি পেয়ে যায় সুইডেন।

এই গোলটির বৈধতা পাওয়ার সাথে সাথে সভানবার্গ বিশ্বকাপের ইতিহাসের রেকর্ডবুকে নিজের নাম খোদাই করে নিয়েছেন। কারণ, এই অবিশ্বাস্য গোলটি করার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগেই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে সাইডলাইন থেকে সবুজ গালিচায় পা রেখেছিলেন তিনি। তবে মাঠের প্রবেশের ঠিক কত সেকেন্ড পর গোলটি এসেছে, তা নিয়ে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর মাঝে দারুণ এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে:

  • বিবিসি লাইভ (BBC Live): বিবিসির ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও লাইভ ডেটা অনুযায়ী, সভানবার্গ মাঠে নামার মাত্র ১২ সেকেন্ডের মাথায় এই নাটকীয় গোলটি করেছেন। আর এই হিসাব চূড়ান্ত হলে, এটিই হবে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো বদলি (Substitute) খেলোয়াড়ের করা দ্রুততম গোল।
  • ইএসপিএন (ESPN): বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনের টাইমিং বলছে, সভানবার্গ গোলটি করেছেন মাঠে নামার ১৬ সেকেন্ডের মাথায়। এই হিসেবে এটি হবে বিশ্বকাপের যৌথভাবে দ্রুততম গোল।
  • অপটা (Opta): ফুটবলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘অপটা’-র মতে, সভানবার্গ মাঠে প্রবেশের ১৮ সেকেন্ডে গোল করেছেন। অপটার এই হিসাব সত্য হলে এটি হবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। কারণ, ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে উরুগুয়ের রিচার্ড মোরালেস বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ১৬ সেকেন্ডে গোল করার রেকর্ডটি এখনো নিজের দখলে রেখেছেন।

সব মিলিয়ে সভানবার্গের এই গোলটি এককভাবে বিশ্বরেকর্ড নাকি যৌথ রেকর্ড হিসেবে ফুটবল ইতিহাসের স্থায়ী দলিল হবে, তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফিফা’ (FIFA)-র অফিশিয়াল ম্যাচ রিপোর্টের ওপর।

সভানবার্গের এই রেকর্ড গড়া গোলের মহোৎসবে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। এই বিধ্বংসী জয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট এবং গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষস্থানটি এখন সুইডেনের দখলে। এদিকে একই গ্রুপের অন্য একটি হাইভোল্টেজ ও রোমাঞ্চকর ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের লড়াইটি ২-২ গোলে অমীমাংসিতভাবে ড্র হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *