‘প্রস্তাবিত বাজেট উচ্চাভিলাষী, ঋণনির্ভর ও লুটপাটের’: ভোলায় বাজেট প্রতিক্রিয়ায় মিয়া গোলাম পরওয়ার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটকে সম্পূর্ণ ‘উচ্চাভিলাষী, বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সাথে ৩০ জুনের মধ্যে জামায়াতের দেওয়া বিকল্প বাজেট প্রস্তাব বিবেচনা করে এটিকে জনবান্ধব রূপে সংশোধন করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (১৩ জুন, ২০২৬) দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার ওয়েস্টার্ন পাড়ায় অবস্থিত জেলা জামায়াতের প্রধান কার্যালয়ে উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের ‘শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগেই দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে সরকারকে একটি কার্যকর ‘বিকল্প বাজেট প্রস্তাব’ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সরকার তা বিবেচনায় নেয়নি।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, কর কাঠামোর আমূল সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেসব প্রস্তাবনা এড়িয়ে গিয়ে যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।”

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ তথা—প্রশাসন, কর প্রশাসন (NBR), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) এবং বিচার বিভাগ থেকে দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক অনিয়ম উপড়ে ফেলতে না পারলে কোনো বাজেটই সাধারণ জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। আর এই ব্যর্থতার কারণে বাজেটের বিশাল অঙ্কের অর্থ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের উন্নয়নে না লেগে ক্ষমতাসীন দলের লোকদের নিজস্ব স্বার্থে ও পকেট ভারী করার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

গ্যাস, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সাধারণ মানুষের ওপর কর ও ব্যয়ের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এই ধরণের ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবে মাঠে রূপ দেওয়া অসম্ভব। জনগণের জীবনযাত্রার সংকটের বিপরীতে গিয়ে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সরকার সাধারণ জনগণ থেকে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”

বাজেটের পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কার ও ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দেন। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ যদি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে রাষ্ট্রে আবারও এক ব্যক্তির হাতে সীমাহীন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকার সুযোগ থেকে যাবে। এই ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা রোধ করতেই জুলাই সনদে বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও পরিচালনা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”

সংস্কারের কিছু বিষয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গণভোটে দেশের জনগণ যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, তা সবার মেনে চলা উচিত। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাষ্ট্রকাঠামোয় দুর্নীতি, দলীয়করণ, বিদেশে দেদারসে অর্থ পাচার ও ভিন্নমত দমন-পীড়নের মতো কালো প্রবণতাগুলো আবারও ফিরে আসবে এবং দেশ আবারও নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারের দিকে ধাবিত হতে পারে।”

জেলা জামায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসাইন। এছাড়াও ভোলা জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মপরিষদ সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *