বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (SME) বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক হালাল সার্টিফিকেশন বা সনদ অর্জনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যৌথভাবে কাজ করার আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়া। আজ বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) ঢাকায় এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত মিস লিস্তিওওয়াতি।
সমঝোতা স্মারক (MoU) ও আন্তর্জাতিক মেলা
বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশের তিনটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের তাগিদ দেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (SME Foundation)
- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB)
- বাংলাদেশ মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা প্রতিষ্ঠান (BSTI)
এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি দল জানান, আগামী মাসেই (জুলাই ২০২৬) ইন্দোনেশিয়ায় প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক হালাল পণ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই মেলায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা যাতে তাঁদের উৎপাদিত হালাল পণ্য ও সেবা নিয়ে বড় পরিসরে অংশ নেন, সেই আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।
কেন এই সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান অপরিসীম:
- অর্থনীতিতে অবদান: দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ।
- প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের ১ কোটি ১৮ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (MSME) শিল্পের আওতাভুক্ত।
- কর্মসংস্থান: শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশই এই খাতে, যেখানে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ কর্মরত।
বিশেষ করে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এসএমই ফাউন্ডেশনের সুবিধাভোগী প্রায় ২১ লাখ উদ্যোক্তার মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী, যারা এই হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজার ধরার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নূরুজ্জামান ও মো. ফিরোজ উদ্দিন, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার ও ফারজানা খান।
অনলাইন ও অফলাইনে আরও যুক্ত ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার ইসলামী অর্থনীতি ও অর্থায়নের শরিয়াহ ব্যবসা বিষয়ক মহাপরিচালক পুতু রাহউইদিয়াসা এবং ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (IBCCI) সভাপতি মোহাম্মদ রিয়াদ আলী।
