বিদেশে বসে ভারতের যুবসমাজকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ: বিজেপি সভাপতি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ব্যবহার করে ভারতের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত বা ভুল পথে পরিচালিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।

শনিবার (৬ জুন) ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে অনুষ্ঠিত এক দলীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ আজ ভারতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তরুণদের লক্ষ্য করে পরিচালিত নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রচারণা বা বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

নিতিন নবীন বলেন, “বিদেশে অবস্থান করে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মনে করছে তারা ভারতের যুবসমাজকে নিজেদের মতো করে পরিচালিত করবে অথবা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। কিন্তু ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং সচেতন তরুণ প্রজন্ম সেই সুযোগ দেবে না।”

তিনি দাবি করেন, বর্তমান ভারতের অগ্রযাত্রার পেছনে দেশের যুবকদের কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা এবং ইতিবাচক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে তরুণদের অবদান উল্লেখযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, “যারা যুবসমাজকে নেতিবাচক রাজনীতি, বিভাজনমূলক চিন্তাধারা কিংবা অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে চায়, তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—ভারতের তরুণরা গঠনমূলক ও ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তারা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে এগিয়ে নিতে চায়।”

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে। তবে প্রতিবাদের নামে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

নিতিন নবীনের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওই সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানানো হচ্ছে।

বিক্ষোভ সমাবেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তিনি একসময় ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির (এএপি) সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করেছেন।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন। রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কৌতুকধর্মী বিশ্লেষণ এবং অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অনুসারী অর্জন করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তার নেতৃত্বে সংগঠিত বিভিন্ন অনলাইন ও অফলাইন রাজনৈতিক কার্যক্রম ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক রাজনৈতিক প্রচারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক মতামত গঠন, জনমত প্রভাবিত করা এবং আন্দোলন সংগঠিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোও এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে।

তবে একই সঙ্গে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং বিদেশভিত্তিক ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দেশে উদ্বেগও বাড়ছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান বিরোধী সমাবেশ এবং বিজেপির পাল্টা রাজনৈতিক অবস্থানকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *