হারারে টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর জিম্বাবুয়ে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসেও একটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে টাইগাররা। ফলে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের সামনে এখন হারের শঙ্কাই বেশি।
সোমবার (২৯ জুন) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানে পিছিয়ে থাকায় দিনশেষে এখনও সমান ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংসে ২০ রান করা ওপেনার সাদমান ইসলাম দ্বিতীয় ইনিংসেও হতাশ করেন। তিনি ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির পরিবর্তে রিচার্ড এনগারাভার শিকার হন। এরপর মাহমুদুল হাসান জয় ও মুমিনুল হক সতর্ক ব্যাটিং করে দিনের বাকি সময় পার করেন। জয় ২১ এবং মুমিনুল ৯ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে জিম্বাবুয়ে। ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়ার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে স্বাগতিকরা ৪১০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে।
২২৭ বল মোকাবিলা করে ১৭টি চার হাঁকিয়ে ১৪০ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন ইনোসেন্ট কাইয়া। আরেক ওপেনার বেন কুরান করেন ৪২ রান। এরপর ব্রায়ান বেনেট ৫৯ এবং অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন ৬০ রান করে দলের বড় সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
মিডল অর্ডারে সাত নম্বরে নেমে ওয়েসলি মাধেভেরে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। শেষ পর্যন্ত ৮টি চার মেরে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নিচের সারির ব্যাটারদের কাছ থেকেও কার্যকর সমর্থন পেয়ে ৪১০ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে একাই লড়াই করেছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৪০.২ ওভার বল করে ১৩৮ রান খরচায় ৭টি উইকেট শিকার করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য বোলিং পারফরম্যান্স। এছাড়া খালেদ আহমেদ নেন ২টি উইকেট। অন্য বোলাররা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেননি।
ম্যাচে টিকে থাকতে হলে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বড় জুটি গড়তে হবে। বিশেষ করে ওপেনিং ব্যর্থতার পর জয় ও মুমিনুলের ওপরই এখন বড় দায়িত্ব। জিম্বাবুয়ের ২৭০ রানের লিড কাটিয়ে অন্তত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লক্ষ্য দাঁড় করাতে না পারলে হার এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে টাইগারদের।
