প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘ভিওন’ (VEON)-এর চেয়ারম্যান ও গ্লোবাল কো-ফাউন্ডার অগি ফাবেলা। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বাংলালিংক ও ভিওন কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও তরুণ সমাজ সহজে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে। একইসঙ্গে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে গতিশীল করতে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য তিনি ভিওন চেয়ারম্যানকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি নাগরিকের তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পাওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। ইন্টারনেটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনলে দেশের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের বিপুল প্রসার ঘটবে।”
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন— ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। অন্যদিকে ভিওন ও বাংলালিংকের উচ্চপ্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— ভিওনের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বাস।
বৈঠকে ভিওনের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা বাংলাদেশের টেলিকম খাতের অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে বাংলালিংকের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, একই দিনে জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আয়োজনে একটি মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, যা সংসদ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
