ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বাজার মূলধন কমল ৯১৪ কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশের পর থেকে দেশের পুঁজিবাজারে যে মিশ্র বা মন্থর গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, চলতি সপ্তাহে তা বড় ধরণের সংশোধনে রূপ নিয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সাইডলাইনে চলে যাওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক বড় বিনিয়োগকারীদের নতুন করে পোর্টফোলিও গোছানোর কৌশলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে একদিকে যেমন কমেছে সব কয়টি প্রধান মূল্যসূচক, অন্যদিকে দৈনিক গড় লেনদেনও এক চতুর্থাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

পতনের মুখে ডিএসইর সবকটি সূচক

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স (DSEX) ৮.৫৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ হারিয়ে অবস্থান করছে অবদমিত স্তরে। এছাড়া ব্লু-চিপ বা বড় মূলধনি কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ (DS30) কমেছে ১১.৯৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস (DSES) আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬.৮২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

লেনদেন কমেছে ১,৬৬১ কোটি টাকা: প্রতিদিনের গড় পতন ২৫.৮৮%

সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মোট লেনদেনে। চলতি সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেন কমেছে ১ হাজার ৬৬১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

একইভাবে দৈনিক গড় লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। চলতি সপ্তাহে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯৫১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১ হাজার ২৮৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ফলশ্রুতিতে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৩৩২ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ২৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

ডিএসই বাজার চিত্র: এক নজরে শেয়ারের উত্থান-পতন

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং করপোরেট বন্ডের ইউনিটের কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ক্রেতাদের আগ্রহ ধরে রেখে দর বাড়াতে পেরেছে মাত্র ১৪৫টি কোম্পানি। বিপরীতে লোকসানের মুখে পড়ে দাম হারিয়েছে ২২২টি স্ক্রিপের এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল ছিল ২১টি কোম্পানির শেয়ার দর।

সিএসইর চিত্র: সূচক কমলেও ব্যতিক্রমীভাবে বেড়েছে লেনদেন

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের বড় পতন দেখা গেছে। তবে ডিএসইর বিপরীতে সিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • সিএএসপিআই (CASPI) ও সিএসসিএক্স (CSCX): সিএসইর প্রধান এই দুই সূচক যথাক্রমে ১.৩৩ শতাংশ ও ১.৩৪ শতাংশ কমে সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ১৫,১৪৯.২৯ পয়েন্টে এবং ৯,২৬৩.০৪ পয়েন্টে।
  • অন্যান্য সূচক: সিএসই-৩০ সূচক ০.১১ শতাংশ এবং সিএসই-৫০ সূচক ১.৬৮ শতাংশ কমে যথাক্রমে ১৩,৭৬৮.৭৫ ও ১,০৯৬.২৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক সিএসআই (CSI) ৩.৯৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৪২.৩৭ পয়েন্টে।
  • লেনদেন চিত্র: সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৬০ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২১৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ সিএসইতে সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৪৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। মোট ৩২৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেনের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ১৯১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *