লস অ্যাঞ্জেলেসের কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে এক অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নিয়েছে তুরস্ক। নিয়মরক্ষার ম্যাচ হলেও মাঠের ফুটবলে দুই দলের লড়াই ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ও রোমাঞ্চকর। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরলেও ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তের ডিফেন্সিভ ব্লুপার বা ভুলের কারণে পরাজয় এড়াতে পারেনি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের রূপকথার মতো। খেলা শুরুর মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে উড়ে আসা বলকে দুর্দান্ত এক ‘হাফ ভলি’ শটে জালে জড়িয়ে মার্কিন ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি (Trustee) দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উল্লাস স্থায়ী হয়েছে মাত্র সাত মিনিট। ম্যাচের ১০ম মিনিটে তুরস্কের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা আরদা গুলের (Guler) একক নৈপুণ্যে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে গোল করে তুরস্ককে ১-১ সমতায় ফেরান।
সমতায় ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় তুর্কিরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে এরেন এলমালের চমৎকার এক মাপা পাস থেকে মিডফিল্ডার ওরকুন কোকচু (Kokcu) দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠালে ২-১ গোলে লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে তুরস্ক।
বিরতি থেকে ফিরেই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। যার ফলশ্রুতিতে ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের তৈরি করা আক্রমণ থেকে সেবাস্তিয়ান বারহল্টার (Berhalter) আলতো টোকায় গোল করে স্বাগতিকদের ২-২ গোলে সমতায় ফেরান। সমতায় ফেরার পর দুই দলই একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে এবং ম্যাচটি যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমে) মার্কিন ডিফেন্সের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জয়সূচক গোলটি পেয়ে যায় তুরস্ক। এই নাটকীয় গোলে ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত একটি সান্ত্বনার জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তুর্কিরা।
এই ম্যাচে হারলেও প্রথম দুই ম্যাচের দাপুটে জয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নকআউট বা শেষ ৩২ দলের (Round of 32) টিকিট আগেই নিশ্চিত হয়ে ছিল। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ড্র ও সূচি অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সময় ভোর রাতে নকআউটের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
