চুক্তি ভাঙলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্প, ইরানকে নতুন বার্তা

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলতে না গলতেই আবারও রণংদেহী মেজাজে হাজির হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ সোমবার (২৩ জুন, ২০২৬) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন:

“ইরান যদি আমাদের সাথে করা সাম্প্রতিক চুক্তিটি অক্ষরে অক্ষরে মেনে না চলে, কিংবা তারা যদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় আমাকে যা করতে হবে, আমি ঠিক তাই করব।”

উল্লেখ্য, গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন সামরিক সংঘাত চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরণের বিমান হামলা চালানোর পর তেহরানও পাল্টা আঘাত হানে ইসরায়েল মূল ভূখণ্ড এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে। এর পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু, লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়া এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার পর গত সপ্তাহে এক প্রকার বাধ্য হয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সুইজারল্যান্ডে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু চুক্তি সইয়ের সাত দিন পার হতেই ট্রাম্পের এই হুশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও নতুন করে যুদ্ধের মেঘ জমাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল আমেরিকার ব্যাংকে ইরানের জব্দ থাকা বিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থ বা সম্পদ (Frozen Assets) অবমুক্ত করা। এই অর্থের ব্যবহার নিয়েই এখন দুই দেশের মধ্যে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার দাবি করেন, ইরানকে এই ছাড় দেওয়া অর্থ শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে খাদ্যদ্রব্য ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করতে হবে, যা ঘুরোপথে আমেরিকার কৃষকদের পকেটেই আসবে। ট্রাম্পের ভাষায়—

“ঐ পুরো টাকাটাই খাদ্যদ্রব্য কেনার জন্য আমেরিকার বাজারে ফেরত আসছে, যা ইরানের ভীষণভাবে প্রয়োজন। তাদের ৯১ মিলিয়ন (৯ কোটি ১০ লাখ) মানুষ আছে, তারা নিজেরা তাদের খাওয়াতে পারছে না। তাই, আমরা যে অর্থ ছাড় করছি, তা সরাসরি আমাদের দেশের কৃষকদের কাছে যাবে।”

তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে কড়া জবাব দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ (Tasnim)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি (Abdolnaser Hemmati) স্পষ্ট করে বলেছেন:

“বর্তমান সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো ধরণের কৃষি উপকরণ বা খাদ্য কিনতে তেহরান মোটেও বাধ্য নয়। ওয়াশিংটন নিজেদের মতো করে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।”

গভর্নর হেম্মাতি আরও স্পষ্ট করেন যে, অবমুক্ত হওয়া অবশিষ্ট এই বিশাল তহবিল শুধুমাত্র তথাকথিত ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য’ ক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন বা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় এমন যেকোনো আন্তর্জাতিক আইটেম বা পণ্য তৃতীয় কোনো দেশ থেকে কেনার জন্যও তেহরান এই অর্থ স্বাধীনভাবে পাঠাতে ও ব্যবহার করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *