হুমকির জবাবে প্রস্তুত ইরান, আলোচনার মাঝেও সর্বোচ্চ সতর্কতায় সশস্ত্র বাহিনী

সুইজারল্যান্ডে আমেরিকার সাথে প্রথম দফার সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের পর যখন নতুন রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিল ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (SNSC) প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপ-সচিব গাদির নেজামি (Ghadir Nezami) হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক (High Alert) অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ধরনের আকস্মিক বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার পরেও আমেরিকার প্রতি তেহরানের এই চরম হুঁশিয়ারির নেপথ্যে রয়েছে গভীর আস্থাহীনতা ও অতীত অভিজ্ঞতা। ইরানি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত এক বছরে যখনই দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে বা প্রকাশ্যে কোনো শান্তি আলোচনা বা চুক্তি প্রক্রিয়া চলেছে, ঠিক তখনই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী দুই দফায় ইরানের কৌশলগত স্থাপনার ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে।

এই কারণেই তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের প্রতি তীব্র আস্থাহীনতা পোষণ করে। গাদির নেজামি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান এবার কেবল আশ্বাসে বিশ্বাসী নয়; তারা ‘কমিটমেন্ট ফর কমিটমেন্ট’ (Commitment for Commitment) বা সমতার ভিত্তিতে চুক্তি চায়।

এদিকে, ব্রিকস (BRICS) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের ১৬তম উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সোমবার (২২ জুন) সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে বৈঠকের পাশাপাশি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই’র (Wang Yi) সাথে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন গাদির নেজামি। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মেগা বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা, লেবানন ও ইসরায়েল পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম ধাপের সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় মর্যাদার প্রতি বেইজিংয়ের পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মার্কিন-ইরান এই সমঝোতা স্মারক মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পথ উন্মোচন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *