সংসদ ভবনে ফাটল ও পানি চুইয়ে পড়া, দ্রুত সংস্কারের দাবি জামায়াত এমপির

জাতীয় সংসদ ভবনের মূল কাঠামোর ভেতরের কিছু নাজুক পরিস্থিতি ও ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার মতো ত্রুটি সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন নতুন সংসদের সদস্যরা। আজ সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বাদশ (১২তম) কার্যদিবসে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সংসদের বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) রাশেদুল ইসলাম রাশেদ জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ হিসেবে এটি উপস্থাপন করেন।

সংসদের বৈঠকে নোটিশটি উত্থাপন করে জামায়াত এমপি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, সংসদ ভবন কেবল আমাদের আইন প্রণয়নের কেন্দ্রই নয়, এটি আমাদের জাতীয় প্রতীক এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অনন্য স্থাপত্যকীর্তি। কিন্তু বর্তমানে এই সুদৃশ্য ভবনের বেশ কিছু স্তরে ফাটল ও ছাদ থেকে বৃষ্টির পানি পড়ার মতো দৃশ্য সত্যিই উদ্বেগজনক, যা রাষ্ট্রীয় মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। তিনি এই নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে জরুরি ভিত্তিতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা মূল ভবন সংস্কারের জোর দাবি জানান।

সভাপতির আসনে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই নোটিশটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও দ্রুততম সময়ে সংস্কার ব্যবস্থা নিতে উপস্থিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে বিশেষ অনুরোধ জানান। তবে সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, এই নোটিশটির মূল বিষয়বস্তু সরাসরি ‘সংসদ সচিবালয়’ (Parliament Secretariat) সংক্রান্ত ও তাদের এখতিয়ারাধীন হওয়ায়, টেকনিক্যাল কারণে এটিকে কার্যসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি।

এদিকে আজ দিনের কার্যসূচির শুরুতেই জামায়াতে ইসলামীর অপর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান আরেকটি ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত যৌক্তিক নোটিশের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের পরিচিতির বিষয়ে একটি বিশেষ দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের প্রায় চার মাস পার হতে চললেও অনেক সংসদ সদস্যের সাথে এখনও সবার আনুষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় ঘটেনি। বিশেষ করে সংসদীয় কার্যক্রম যখন টেলিভিশনের পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, তখন দর্শকদের স্ক্রিনে শুধু সংসদ সদস্যের চেহারা দেখা যায় এবং বক্তব্য শোনা যায়; কিন্তু সংশ্লিষ্ট সদস্যের নাম বা তাঁর নির্বাচনী এলাকা সাধারণ মানুষ জানতে পারেন না।

তিনি দাবি করেন, কোনো সদস্য যখনই বক্তব্য দেবেন, তখনই টেলিভিশন স্ক্রিনের নিচে (Ticker/Lower Third) তাঁর নাম ও নির্বাচনী এলাকার নাম ভেসে উঠলে অন্য সদস্যদের পাশাপাশি সারা দেশের জনগণের জন্য তাঁদের চেনা সহজ হবে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এমপি মুজিবুর রহমানের এই প্রস্তাবকে ‘অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত এবং দূরদর্শী’ আখ্যা দিয়ে সংসদ সচিবালয় ও সংসদীয় সম্প্রচার টিমকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালুর কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলে এখন থেকে সংসদ সদস্যরা যখনই সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেবেন, তখন টেলিভিশন স্ক্রিনে তাদের নাম ও নির্বাচনী এলাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। তবে সংসদীয় বিশেষ অধিকার বা ‘প্রিভিলেজ’-এর আওতাভুক্ত না হওয়ায় এই নোটিশটিও আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *