মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের (MoU) ঐতিহাসিক শর্তাবলি অবশেষে আলোর মুখ দেখছে। এই চুক্তির আওতায় ইরান অবিলম্বে কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ (Strait of Hormuz) সব ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর সমান্তরালে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আরোপিত বিতর্কিত নৌ অবরোধও (Naval Blockade) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁর অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিশেষ ও চাঞ্চল্যকর পোস্টে বৈশ্বিক শান্তির এই মহাপরিকল্পনা বিশ্ববাসীর সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে তা উন্মুক্ত করবে এবং বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের মূল অর্থনৈতিক বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের তৈরি করা কঠোর নৌ বেষ্টনী বা অবরোধ তুলে নেবে।
গত কয়েক দিন ধরেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছিল, যেখানে ইরান চুক্তি বাস্তবায়নের মাঝেও তাদের সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা প্রমাণ করে, পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক চাপ সফল হয়েছে এবং দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত বিশ্বশান্তির স্বার্থে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে।
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, বন্ধুরাষ্ট্র কাতারের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতা ও সহায়তায় পাকিস্তান আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি উচ্চ-পর্যায়ের বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই কূটনৈতিক সাফল্যকে বিশ্বমঞ্চে স্মরণীয় করে রাখতে এবং দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী কারিগরি পর্যায়ের (Technical Level) বিশদ আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (Crude Oil) সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, যা গত কয়েক মাসের যুদ্ধকালীন অস্থিরতার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরণের স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা।
