ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত: ৮ আরোহীর সবাই নিহত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ঐতিহ্যবাহী এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি (Edwards Air Force Base) থেকে উড্ডয়নের সামান্য কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানের ভেতরে থাকা ক্রুসহ মোট আটজন আরোহীর সবাই নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশন (Test Mission) পরিচালনার সময়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বিবিসি (BBC) এক বিশেষ লাইভ প্রতিবেদনে এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত ও লোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশাল আকৃতির এই দূরপাল্লার স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানটি এডওয়ার্ডস ঘাঁটি থেকে আকাশে ওড়ে। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাঁটির অদূরেই মরুভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যবর্তী ফাঁকা মাটিতে আছড়ে পড়ে।

মার্কিন বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর বিশাল জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো আকাশজুড়ে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়, যা মাইলের পর মাইল দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘাঁটির বিশেষ উদ্ধারকারী দল, ফায়ার ফাইটার এবং সামরিক হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

দুর্ঘটনার পর এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত এক জরুরি ও আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্নেল জেমস হেইস সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ট্র্যাজেডির আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করেন। অত্যন্ত শোকাকুল কণ্ঠে তিনি বলেন:

“আজ এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি এক ভয়াবহ এবং অপূরণীয় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছে। আমরা আমাদের দেশের অত্যন্ত দক্ষ ও আটজন মহান আমেরিকানকে হারিয়েছি। মার্কিন বিমান বাহিনী ও এই দেশের পক্ষ থেকে আমি নিহতদের শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

প্রাথমিকভাবে নিহতদের সুনির্দিষ্ট নাম ও সামরিক পরিচয় প্রকাশ না করে কর্নেল জেমস হেইস জানান, পেন্টাগনের প্রটোকল অনুযায়ী নিহতদের পরিবারের কাছে আগে খবর পৌঁছানো হচ্ছে। তবে তিনি এটুকু নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত ব্যক্তিরা কেবল নিয়মিত বৈমানিক ছিলেন না; বরং তারা সামরিক কর্মকর্তা, সরকারের উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মচারী এবং ডিফেন্স সিস্টেমের সরকারি ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ টেকনিক্যাল দল (Joint Team) ছিলেন। বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, দুর্ঘটনাটি এতটাই মারাত্মক, তীব্র ও আকস্মিক ছিল যে ককপিট বা কেবিন থেকে আরোহীদের কারও পক্ষে ইজেক্ট করা বা বেঁচে ফেরা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।

স্নায়ুযুদ্ধের আমল থেকে মার্কিন সামরিক আধিপত্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই বি-৫২ বোমারু বিমানটি সাধারণত পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি সামরিক যান। এই ধরনের অত্যাধুনিক ও ভারী বিমান কীভাবে নিয়মিত টেস্ট মিশনে বিধ্বস্ত হলো, তা নিয়ে মার্কিন পেন্টাগনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিমানটির ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি (Technical Glitch) ছিল নাকি উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনে কোনো আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *