দেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন যাত্রায় নারী শ্রমিক ও চাকরিজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ধরণের মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’ (Pink Bus Service) চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট উপস্থাপনের সময় এই চাঞ্চল্যকর ও আকর্ষণীয় তথ্য জানান বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী যখন সংসদে এই বিশেষ বাস সার্ভিসের ঘোষণা দেন, তখন উপস্থিত সকল নারী সংসদ সদস্য এবং স্পিকার টেবিল চাপড়ে ও হাততালি দিয়ে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত ও অভিবাদন জানান।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কর্মক্ষেত্রে বা গণপরিবহনে নারী শ্রমিক এবং কর্মজীবী নারীদের প্রতি যেকোনো প্রকার সহিংসতা, অসম্মান কিংবা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ বা জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করবে।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বিশেষ ‘পিঙ্ক বাস’ চালু হলে দেশের নারী কর্মজীবী ও পোশাক শ্রমিকদের দৈনন্দিন যাতায়াতব্যবস্থা বহুগুণে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও স্বস্তিদায়ক হবে।
শুধু যাতায়াত নয়, বেকারত্ব দূরীকরণ ও দক্ষ জনশক্তিকে কাজের সাথে যুক্ত করতে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ (Employment Exchange) বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্রগুলো চালু হলে তৃণমূলের যোগ্য তরুণ-তরুণী ও প্রান্তিক শ্রমিকদের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সাথে যুক্ত করা সহজ হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা দালানদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে তাদের আইনি সুরক্ষা ও অধিকার বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন আইনি সংস্কারের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান:
- নতুন শ্রম আইন: শ্রমিকদের সার্বিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ জারি করেছে।
- শিশুশ্রম বন্ধের মাস্টারপ্ল্যান: ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে সব ধরণের শিশুশ্রম চিরতরে বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট রূপরেখাসহ ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০’-এর খসড়া চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে।
