টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের স্বপ্নকে চাপ নয়, অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন শান্ত

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটি ড্র করে বাংলাদেশ। সেই হতাশা পেছনে ফেলে এবার ঘরের মাঠে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দল।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ খেলেছিলেন। এবার লাল বলের ক্রিকেটে বিরতির পর দলে ফিরছেন তাসকিন আহমেদ। শান্তর মতে, পেসাররা এখন নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে আগের চেয়ে বেশি পরিষ্কার।

শান্ত বলেন, ‘আমাদের পেস আক্রমণের ইতিবাচক দিক হলো, প্রত্যেকে নিজের ভূমিকা জানে। কে কখন খেলবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কাকে প্রয়োজন, সে বিষয়ে তাদের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।’

দলের সব পেসার যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকাকেও বড় সুবিধা হিসেবে দেখছেন তিনি। তার মতে, সিরিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো পেসারকে একাদশে নেয়ার সুযোগ অধিনায়ককে বাড়তি সুবিধা দেবে।

তবে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিকতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর পর একমাত্র টেস্টে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে দল। এরপর ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারালেও পরের টেস্টে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ হয় ড্রয়ে।বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো চাপ নয়, বরং অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

ডব্লিউটিসির চলমান চক্রে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও বাকি চারটি টেস্টে জিততে পারলে শীর্ষ দুইয়ে থেকে ফাইনালে খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে টাইগারদের। আগের তিন চক্রের তুলনায় এবার বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও বেশ ভালো, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে টেস্ট নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।

শান্ত বলেন, ‘আমার কাছে এটি চাপ নয়, বরং অনুপ্রেরণা। টেস্ট ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এই সিরিজের প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই আমরা গত কয়েকটি সিরিজ এবং কয়েক বছরে টেস্টে যেভাবে খেলেছি, সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাড়তি কিছু করতে চাই না। নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে চাই। কারও কাছে অসাধারণ কিছু প্রত্যাশা করছি না। সিরিজটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের লক্ষ্য আগের সেই প্রক্রিয়া ধরে রাখা, যেটি আমাদের ফল এনে দিচ্ছে।’

শান্তর মতে, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তবে তার আগেও টেস্টে উন্নতি করার তাগিদ খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল।

তিনি বলেন, ‘ডারউইনে টেস্ট জেতা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বাস বাড়িয়েছে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এর আগেও এই সংস্করণে উন্নতি করার প্রবল ইচ্ছা তাদের মধ্যে ছিল। তারা সত্যিই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়। জয়ের পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে।’

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহও আশাবাদী করছে অধিনায়ককে। তার বিশ্বাস, বর্তমান অবস্থান থেকে আরও উন্নতি করতে পারলে জাতীয় দল আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।

শান্তর ভাষায়, ‘টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে মানুষ যেভাবে অপেক্ষা করে, খেলা দেখে এবং আলোচনা করে, তা সত্যিই আনন্দদায়ক। এটি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। আমরা বর্তমান অবস্থান থেকে আরও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ উন্নতি করতে পারলে জাতীয় দলের অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারব। ইনশাআল্লাহ, আমরা আরও ভালো কিছু অর্জন করব।’

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি আগামী ৫ নভেম্বর সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে।