নোয়াখালীর ভাসানচর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক সফল অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি বিশালাকার কার্গো বোটসহ চোরাচালান চক্রের ছয়জন সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) রাতে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাসানচর স্টেশনের অভিযান
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে মিয়ানমারে অবৈধভাবে সার ও বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় রশদ পাচার করা হচ্ছে—এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে ভাসানচরের গাংগুরিয়ার চর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচরের একটি চৌকস দল।
অভিযান চলাকালে গাংগুরিয়ার চর এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করা একটি দেশীয় কার্গো বোটকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পরে বোটে তল্লাশি চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে গোপনে বহন করা ৪৯০ বস্তায় মোট ২৪ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া সার, ৩ হাজার ৭০০ কেজি ছোলা এবং ৬ হাজার ৮৫০ কেজি বুটের ডাল উদ্ধার করা হয়।
১৭ লাখ টাকার মালামাল জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার, ছোলা, বুটের ডাল এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত কার্গো বোটটির আনুমানিক মোট বাজারমূল্য ১৭ লাখ ৪ হাজার ২৫০ টাকা। এ সময় বোটে থাকা ছয় পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা মালামাল, বোট এবং আটককৃত ছয় চোরাচালানকারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, দেশের সমুদ্রসীমা ব্যবহার করে সার, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রীর বেআইনি চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
