দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঠেকাতে মোদি সরকারের ‘যুদ্ধপ্রস্তুতি’

পুলিশের বিশাল বহর। যন্তর মন্তরের চারপাশে কড়া পাহারা। আকাশে উড়ছে ড্রোন, বিক্ষোভস্থলের প্রতিটি গতিবিধিতে নজরদারি। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তার এমন আয়োজন, যেন যুদ্ধের প্রস্তুতি!

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ আর লাখ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আয়োজন—এসআইআর বাতিলের দাবিতে ডাকা ককরোচ জনতা পার্টি—সিজেপির এই সমাবেশ। যন্তর মন্তরের এই কর্মসূচি ঘিরেই দিল্লিতে কঠোর মোদি সরকার।

বিক্ষোভ সামাল দিতে ৩৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে সরকার। বাতিল করা হয়েছে ২৪৫টি ট্রেন, বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। ৩০টি স্থানে যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশের নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, প্রতিবাদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থায় বাধা তৈরি করা হচ্ছে।

শুধু সমাবেশ ঠেকানোর পদক্ষেপই নয়, পুলিশ চালাচ্ছে গণগ্রেপ্তার। বাস-ট্রেন থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে নানা বয়সী মানুষকে। এরই মধ্যে তুলে নিয়ে গেছে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্রুব রাঠিকে। আটক করা হয়েছে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককেও। তারা এখন কোথায়, তারও কোনো হদিস নেই। আটকের আগে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন অভিজিৎ।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের তরুণ ও সাধারণ মানুষকে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? ট্রেন চলাচল বন্ধ করার কী প্রয়োজন ছিল? মেট্রো চলাচল বন্ধ, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন, সড়ক অবরুদ্ধ—নিজ দেশের মানুষের বিরুদ্ধেই কি যুদ্ধ করতে চান নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ?

আটক বা গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনড় সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। আটকের আগে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অভিজিৎ দীপক আরও বলেন, আমাকে আটক বা গ্রেপ্তার করতে চাইলে করুক। তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ইউএপিএ বা জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করতে চাইলে করুক। কিন্তু অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং দেশের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।

এর মধ্যে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। দিল্লির পথে আসা ট্রেন-বাস থেকে সাধারণ যাত্রীদের তুলে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *