বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

কুয়ালালামপুরে ক্ল্যাং চাইনিজ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (কেসিসিআই) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বিজনেস ফোরাম: ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে বুধবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কেসিসিআই সভাপতি জেফরি তান বলেন, মালয়েশিয়া শ্রমঘন শিল্প থেকে ধীরে ধীরে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারেন।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি অবকাঠামো, ডিজিটাল আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ, সেমিকন্ডাক্টর, হালাল খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিদেশে প্রায় ৪ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। মালয়েশিয়ার চিকিৎসা খাতের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির জন্য নয়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনাময় গন্তব্য। এভিয়েশন, চিকিৎসা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) না থাকা একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষর হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ চুক্তি হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতেও সহযোগিতা করতে পারেন মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা।

এসএমই করপোরেশন মালয়েশিয়ার চেয়ারম্যান ট্যাং চ্যাং খিম বলেন, দেশটিতে বর্তমানে ১৩ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) রয়েছে। দুই দেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা চেম্বার ও ক্ল্যাং চেম্বারকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্ক ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী। পরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা চেম্বার ও ক্ল্যাং চেম্বারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন তাসকীন আহমেদ ও জেফরি তান।

এ ছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৪০টি বিটুবি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরে মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতিমন্ত্রী টিয়োং কিং সিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ভ্রমণকারী পর্যটকের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। মুসলিম পর্যটন শিল্পের বিকাশে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে মুসলিম পর্যটন ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে উন্নত হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি মালয়েশিয়া সরকার বিবেচনা করছে বলেও জানান মন্ত্রী।

দুই দেশের পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার (আইটিসি) মালয়েশিয়া ও ঢাকা চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাবও দেন টিয়োং কিং সিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *