চলমান পাবলিক পরীক্ষা এবং প্রশ্নপত্রের মানদণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সংযোগস্থল সায়েন্সল্যাব এলাকা। পরীক্ষা সংক্রান্ত নানা জটিলতা এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবার সরাসরি বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে সসম্মানে পদত্যাগ করতে এবং তাঁর পূর্বে দেওয়া ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য অনতিবিলম্বে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম (Ultimatum) দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করে অবস্থানকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই কঠোর ঘোষণা ও আল্টিমেটাম পাঠ করেন ঢাকা সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন।
পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ ও নতুন রুটিন প্রকাশের দাবি
শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনের মুখপাত্র মো. মিরাজ হোসেন তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, “আজকের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হলে ছাত্রসমাজ আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবে। আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁর অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”
শিক্ষার্থীরা এ সময় তাঁদের ৩ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: ১. গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে যে চরম অস্বস্তিকর, বৈরী ও প্রতিকূল পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি—উভয় পক্ষের কথা বিবেচনা করে উক্ত পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে পুনরায় নতুনভাবে গ্রহণ করতে হবে। ২. আগামীকাল বুধবারের জন্য নির্ধারিত পরীক্ষাটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত বা বাতিল করে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক সম্পূর্ণ নতুন করে পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন (Routine) প্রকাশ করতে হবে। ৩. পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মানদণ্ড অবশ্যই সাধারণ পরীক্ষার্থীবান্ধব এবং যৌক্তিক হতে হবে; কোনো ধরনের মনগড়া বা অতিরিক্ত কঠিন প্রশ্ন প্রণয়ন করা যাবে না।
সায়েন্সল্যাব অবরুদ্ধ, আলোচনার উদ্যোগ নেই সরকারের
এর আগে আজ বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী মিছিলসহকারে এসে মিরপুর রোড ও প্রগতি সরণির সংযোগস্থল সায়েন্সল্যাব এলাকায় অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা সড়কের মাঝখানে বসে পড়লে ওই গুরুত্বপূর্ণ রুটের সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে পল্টনের আজিমপুর, নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি ও কলাবাগানসহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা অফিসফেরত সাধারণ নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবং পরীক্ষা সংস্কারের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে দৈনিক রিপোর্টার বিডি-কে বলেন, “আমরা সকাল থেকে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমাদের সাথে ন্যূনতম আলোচনা করতে বা আমাদের দাবি শুনতে আসেননি। এই উদাসীনতা আমরা মেনে নেব না।” পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সায়েন্সল্যাব ও নীলক্ষেত এলাকায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
