শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করছে কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্নের মান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের আড়ালে একটি বিশেষ মহল জলঘোলা করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিমধ্যে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সমাধান করার পরও কিছু অছাত্র ও বহিরাগত এই আন্দোলনের ওপর ভর করে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘আন্দোলনকারীদের অনেকে ছাত্র বা পরীক্ষার্থীই নন’

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের রাজপথে আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক বা উগ্র গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে যেকোনো মূল্যে বিব্রত ও অস্থিতিশীল করতে চায়, দেশে এমন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তো সক্রিয় রয়েছেই। বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যুতে তারা নিজেদের আসল পরিচয় গোপন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে ঢুকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়—তা ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যারা রাজপথে উগ্র আন্দোলন ও ভাঙচুর করছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আসলে প্রকৃত ছাত্র কিংবা এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীই নন।”

তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারকে অবহিত করেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই তাদের ইতিবাচক অবস্থান পরিষ্কার করেছে যে, দেশের দুর্যোগপূর্ণ ও বন্যাকবলিত আবহাওয়ার কারণে কোনো প্রকৃত শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে তাদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার বিশেষ সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।”

পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের সমাধান ও তদন্ত কমিটি

পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছিল বলে অভিযোগ এসেছে। সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ভুলের পেছনে কারা দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, ভুল থাকা ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর যুক্ত করে দেওয়া হবে। সাধারণ ও প্রকৃত পরীক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এর পরেও যদি কোনো শিক্ষার্থী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে থাকে, তবে পরবর্তীতে যখন স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো চলবে, তখন তাদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে আইনি ও যৌক্তিক উপায়ে এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হয়ে গেছে।”

শিক্ষামন্ত্রীর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একটি মন্তব্যের কারণে শিক্ষার্থীরা মনে কষ্ট পেয়েছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী নিজেই মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপর আর ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকে না।”

সরকারকে বিব্রতকারীদের গুরুত্ব দিচ্ছে না প্রশাসন

যারা আন্দোলনের নামে নাশকতা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর বার্তা রয়েছে কি না—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই উসকানিমূলক তৎপরতাগুলোকে আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। আমরা লক্ষ্য করেছি, ঢাকার দু-একটি স্পট এবং দেশের দু-একটি জেলায় সীমিতসংখ্যক কিছু মানুষ এগুলো নিয়ে জলঘোলা করার চেষ্টা করছে, যাদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। বিষয়টি মূলত গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার কারণে বড় আকারে সামনে এসেছে। তবে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আমরা এসব অপ্রাসঙ্গিক উসকানিতে মনোযোগ না দিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *