জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রতিমন্ত্রী টুকু

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং বর্তমান সরকার নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে সকালে টাঙ্গাইল জেলা হ্যাপি মাঠ স্মৃতিচত্বরে জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক।

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “ইতিমধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম আদালতে চলমান রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তা সফলভাবে সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করে যেতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য যারা নিজেদের তাজা রক্ত দিয়েছেন, সেই সব বীর শহীদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি বৈষম্যহীন ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাইয়ের শহীদরা দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে মহান আত্মত্যাগ করেছেন, সেই অর্জিত গণতন্ত্র যেন কোনোভাবেই আর বাধাগ্রস্ত না হয়। এই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সরকার সর্বদা শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং তাদের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।”

দ্রুত চার্জশিট ও কর্মসংস্থানের দাবি শিক্ষার্থীদের

আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সামনে নিহত ও আহতদের পরিবারের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবির মধ্যে অন্যতম হলো—নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারের উপযুক্ত সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের দ্রুত ব্যবস্থা করা, জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রামাণ্য চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা এবং শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকরভাবে দাঁড়ানো।

সভায় জুলাই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং মহসিন কবিরসহ সব বীর শহীদদের ঐতিহাসিক অবদান ও আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা শহীদদের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু এবং টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।

এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *