দেশের বাজারে সোনার দাম কমার রেকর্ড যেন ভাঙছে প্রতিনিয়ত। আগের দিন সোমবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানোর পর, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও কমানো হলো মূল্যবান এই ধাতুর দাম। এবার সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এর ফলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সোনার অলঙ্কার কেনা আরও কিছুটা সাশ্রয়ী হলো।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টা থেকেই দেশব্যাপী সোনার এই নতুন হ্রাসকৃত মূল্য চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনের প্রথা অনুযায়ী, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি বৈঠকে স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম হ্রাসের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এই মূল্য হ্রাসের তথ্য জানানো হয়।
ক্যারেট ভিত্তিক সোনার নতুন পুনর্নির্ধারিত মূল্য তালিকা
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত ও নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী এখন থেকে দেশের বাজারে সরকারি ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা ক্যারেট ভেদে নিচে উল্লিখিত সংশোধিত মূল্যে কেনাবেচা করতে হবে:
- ২২ ক্যারেট: আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তৈরি সবচেয়ে ভালো মানের এই সোনার প্রতি ভরির নতুন দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা (যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা)।
- ২১ ক্যারেট: দেশের বাজারে জুয়েলারি তৈরিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: আধুনিক ও ডায়মন্ড কাট ডিজাইনের গহনার জন্য ব্যবহৃত ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ভ্যাটসহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতি: ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ভ্যাটসহ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।
স্থানীয় বাজারে স্বস্তি, জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কঠোর নির্দেশনা
টানা দুই দিনে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, নিউ মার্কেট ও তাঁতীবাজারসহ দেশের প্রধান প্রধান স্বর্ণালঙ্কারের বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে চলতি বিয়ের মৌসুমে পর পর দুই দফায় দাম কমায় সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
বাজুসের পক্ষ থেকে ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, “স্থানীয় বাজারে পাকা বা তেজাবী সোনার সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের সাথে সমন্বয় রেখে আমরা এই দাম কমিয়েছি। বাজুসের সকল সদস্য ও নিবন্ধিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বাড়তি দামে সোনা বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।” এদিকে স্বর্ণের দাম কমলেও আগের দিনের মতোই রূপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং পূর্বের নির্ধারিত মূল্যই বহাল রয়েছে।
