চলতি ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি-কে (Kansas City) নিজেদের আসল ‘ঘর’ বা প্রধান ঠিকানা বানিয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে নকআউট পর্বের প্রতিটি বাধা পার হতে নিজেদের মূল ‘বেইজ ক্যাম্প’ বা বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির হিসেবে এখানেই নিবিড় প্রস্তুতি সেরেছেন লিওনেল মেসি ও তাঁর দল। তবে বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ অন্তিম মুহূর্তে এসে কানসাসের সেই চেনা বেইজ ক্যাম্পে সময় ফুরিয়ে এসেছে তিনবারের বিশ্বজয়ীদের। ট্রফির একদম সন্নিকটে দাঁড়িয়ে এবার ভালোবাসার কানসাসকে বিদায় জানাতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের।
বিদায়বেলায় পুরো কানসাসবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক ও মহাতারকা লিওনেল মেসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মেসি কানসাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, “কানসাস সিটিতে আজ আমাদের শেষ দিন। এখানকার আতিথেয়তা ও সব কিছুর জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ!”
সেমিফাইনালের লক্ষ্যে আটলান্টায় মেসি বাহিনী, সামনে ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনার সামনে এখন আর মাত্র দুটি ম্যাচ বাকি আছে। যার প্রথম ও সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল রাতে, যেখানে সেমিফাইনালের হাইভোল্টেজ মহারণে তাদের মুখোমুখি হতে হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের। শক্তিশালী থ্রি-লায়নসদের বিপক্ষে শেষ চারের এই মেগা ম্যাচে মাঠে নামার উদ্দেশ্যে আজই কানসাস সিটির তল্পিতল্পা গুটিয়ে আটলান্টার (Atlanta) উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আর্জেন্টিনা দল। ইতিমধ্যেই স্কালোনি ও মেসির দল নিরাপদেই আটলান্টায় পৌঁছে তাদের প্রথমিক অনুশীলন শুরু করেছে।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) সূত্রে জানা গেছে, সেমিফাইনালের সমীকরণ অনুযায়ী আগামীকালকের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে লিওনেল মেসিদের পরবর্তী চূড়ান্ত গন্তব্য হবে ফাইনালের ভেন্যু নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি। অন্যদিকে, কোনো কারণে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গেলে টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলার জন্য আর্জেন্টিনাকে পাড়ি জমাতে হবে ওয়ানান্দো বা মায়ামিতে। ফলে হিসেব পরিষ্কার—ফাইনাল কিংবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, যেটাই হোক না কেন, এই বিশ্বকাপের বাকি দিনগুলোতে কানসাস সিটিতে আর কখনোই ফেরা হবে না স্কালোনির শিষ্যদের।
বেইজ ক্যাম্পে স্মরণীয় ‘বিদায়ি বারবিকিউ পার্টি’
কানসাস সিটিতে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং শেষ দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপন করতে আর্জেন্টিনা দলের পক্ষ থেকে এক বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিদায়ের আবহকে আনন্দময় করতে পুরো স্কোয়াড, কোচিং স্টাফ ও অফিশিয়ালদের নিয়ে একটি জমকালো ‘বিদায়ি বারবিকিউ পার্টির’ (Farewell BBQ Party) আয়োজন করে আর্জেন্টিনা।
ঐতিহ্যবাহী আর্জেন্টাইন মাংসের এই ভোজের মাধ্যমে খেলোয়াড়েরা দীর্ঘদিনের ক্যাম্পের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি সেমিফাইনালের মতো মেগা ম্যাচের আগে নিজেদের মানসিকভাবে চাঙ্গা করে নিয়েছেন। কানসাস সিটির ফুটবলপ্রেমীরাও হোটেল ও বেইজ ক্যাম্পের বাইরে জড়ো হয়ে বিশ্বজয়ী দলটিকে করতালির মাধ্যমে বিদায় জানান। এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর আগামীকাল রাতের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের দিকে, যেখানে ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।
