ঢালিউডের রুপালি পর্দায় প্রায় তিন দশক ধরে নিজের রূপ আর অনবদ্য অভিনয়ের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করে রেখেছেন চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। দীর্ঘ ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে পর্দায় তাঁর চিরচেনা ‘মিষ্টি মেয়ে’ ও রোমান্টিক লুকে দর্শকেরা অভ্যস্ত হলেও, এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে হাজির হওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে পর্দায় একজন জাঁদরেল ‘ভিলেন’ বা খলনায়িকা হিসেবে অভিনয় করার প্রকাশ্য ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত ১১ জুলাই ছিল ঢালিউডের এই শীর্ষ অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের একটি বিশেষ লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের না-বলা অনেক কথা ও ভবিষ্যতের এই সুপ্ত ইচ্ছার কথা ভক্তদের সাথে শেয়ার করেন।
চেহারার কোমলতাই কী নেতিবাচক চরিত্রের অন্তরায়?
সাক্ষাৎকারে পূর্ণিমা আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি নানামাত্রিক চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হলেও, আজ পর্যন্ত কোনো চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয় করার নূন্যতম সুযোগ পাননি। মূলত তাঁর চেহারার অতিরিক্ত মায়াবী ভাব ও কোমলতার কারণেই চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাঁকে কখনো কোনো নেতিবাচক বা ডার্ক চরিত্রে কাস্ট করার কথা ভাবেননি বলে মনে করেন তিনি।
নিজের এই নতুন ইচ্ছার কথা জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, “আমার খুব ইচ্ছা এখন পর্দায় খলনায়িকা বা ভিলেন টাইপ কোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করার। পর্দায় আমি এমন একটি দুর্ধর্ষ নেতিবাচক চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চাই, যা দেখে সিনেমা হলের দর্শকদের মনে আমার অভিনীত চরিত্রটির প্রতি তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ তৈরি হবে। একজন সত্যিকারের অভিনেত্রীর সার্থকতা সেখানেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এখন পর্যন্ত খলচরিত্রে অভিনয় করা হয়নি আমার। আমাকে নিয়ে হয়তো ইন্ডাস্ট্রির কেউ তেমনটা চিন্তাই করেননি। সবাই ভাবেন আমার ফেস বা চেহারার সঙ্গে নেতিবাচক চরিত্র ঠিক জমবে না। দর্শকেরা আমাকে সবসময় রোমান্টিক ও পরিপাটি লুকে দেখতেই অভ্যস্ত। তবে এবার সেই চেনা ছকের বিপরীতে গিয়ে কিছু একটা হলে খুব ভালো হতো। আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাই।”
‘এ জীবন তোমার আমার’ থেকে ‘আহারে জীবন’
নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগে, ১৯৯৮ সালে প্রখ্যাত নির্মাতা জাকির হোসেন রাজুর ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে চিত্রনায়ক রিয়াজের বিপরীতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল পূর্ণিমার। প্রথম সিনেমাতেই তিনি বাজিমাত করেন রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ কিংবা ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘গাঙচিল’-এর মতো অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি নিজেকে ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন।
তবে বিগত কয়েক বছর ধরেই অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত এই তারকা। সিনেমার রুপালি পর্দায় এখন আর আগের মতো নিয়মিত পাওয়া যায় না তাঁকে। মাঝে মাঝে টেলিভিশনের পর্দায় তারকা সঞ্চালক কিংবা বিভিন্ন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোর প্রধান বিচারক হিসেবে তাঁকে দেখা গেলেও, অভিনেত্রী হিসেবে তিনি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছেন। সবশেষ ২০২৪ সালের রোজার ঈদে মুক্তি পাওয়া ছটকু আহমেদের ‘আহারে জীবন’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এর আগে ২০২৩ সালে জনপ্রিয় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির ‘হোটেল রিলাক্স’ নামক একটি সুপারহিট ওয়েব সিরিজ দিয়ে ওটিটি (OTT) মাধ্যমে জমকালো অভিষেক ঘটলেও, এরপর আর ওটিটির নতুন কোনো প্রজেক্টেও দেখা মেলেনি তাঁর। ফলে পূর্ণিমার এই নতুন ‘খলনায়িকা’ হওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা ঢালিউডের নির্মাতাদের জন্য এক নতুন ভাবনার খোরাক জোগাবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বোদ্ধারা।
