স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কিছুটা হ্রাস পাওয়ার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সব ধরনের সোনার গহনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারের সাথে সমন্বয় করতে এবার সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি। এর ফলে বিয়ের মৌসুমে সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টা থেকেই দেশব্যাপী সোনার এই নতুন ও হ্রাসকৃত মূল্য চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে বলে বাজুসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানানো হয়।
ক্যারেট ভিত্তিক সোনার নতুন মূল্য তালিকা
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত ও নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী এখন থেকে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ক্যারেট ভেদে নিচে উল্লিখিত মূল্যে কেনাবেচা হবে:
- ২২ ক্যারেট: আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তৈরি সবচেয়ে ভালো মানের এই সোনার প্রতি ভরির নতুন দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা।
- ২১ ক্যারেট: সাধারণ গহনা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।
- ১৮ ক্যারেট: আধুনিক ও ডায়মন্ড কাট ডিজাইনের গহনার জন্য ব্যবহৃত ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ভ্যাটসহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা।
- সনাতন পদ্ধতি: ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ভ্যাটসহ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৮ টাকা।
বাজার পরিস্থিতি ও রূপার দাম অপরিবর্তিত
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হলেও বর্তমানে রূপার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার আগের নির্ধারিত দামই বহাল থাকছে।
বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম বা বেশি দামে সোনা বিক্রি করতে পারবে না। বিজ্ঞপ্তিতে ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন উল্লেখ করেন, “আমরা সবসময় দেশীয় বাজারের ক্রেতাদের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার সরবরাহ বাড়ায় এবং মূল্য কিছুটা কমায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ক্রেতাদের এই সুফল পৌঁছে দিতে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এই মূল্য হ্রাসের ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণালঙ্কারের বেচাকেনা আরও চাঙ্গা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাজধানীর বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন জুয়েলারি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
