দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারি) সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মহিলা কলেজ) শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে শূন্য হওয়া ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের বর্তমান আমির এনামুল হককে নতুন জেলা সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) রাতে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন গণমাধ্যমকে বিষটি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে একই দিন রাতে জেলা কর্মপরিষদের এক জরুরি ও বিশেষ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গৃহীহ হয়।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও জামায়াতের অনন্য সাংগঠনিক নীতি
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সংগঠনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ও গঠনতান্ত্রিক ধারা অনুযায়ী—কোনো পুরুষ সদস্য বা রুকন যদি কোনো বালিকা বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ বা নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, তবে তিনি দলের কোনো কাঠামোগত দায়িত্বশীল (নেতৃত্বের) পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। এই বিশেষ সাংগঠনিক নীতির আলোকেই কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এই বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন দৈনিক রিপোর্টার বিডি-কে জানান, “এটি কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নিয়মিত অংশ। শুধু কুষ্টিয়াতেই নয়, এই একই সাংগঠনিক নীতিমালার কারণে সারা দেশে বিভিন্ন নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত জামায়াতের মোট সাতজন উচ্চপদস্থ ও দায়িত্বশীল নেতাকে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের শূন্যস্থান পূরণে সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগর ইউনিটগুলোতে নতুন দায়িত্বশীলদের নির্বাচিত করা হচ্ছে।”
‘সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ নেই’: সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার
অকস্মাৎ পদ হারানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্যঃসাবেক জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার কোনো ধরনের ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশ না করে সংগঠনের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা অনুযায়ী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রুকনরা শীর্ষ কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারেন না। কেন্দ্রীয় কমিটি সারা দেশের জন্য এই ঐতিহাসিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। একজন আদর্শ কর্মী হিসেবে আমি সংগঠনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত আনন্দের সাথে মেনে নিয়েছি।”
নিজের শিক্ষকতা পেশার বিবরণ দিয়ে তিনি আরও জানান, “আমি কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার অনেক আগেই কুষ্টিয়ার বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলাম। তৎকালীন সময়ে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের এই সংশ্লিষ্ট বিধানটি সাময়িকভাবে শিথিল বা স্থগিত ছিল, যার ফলে দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা ছিল না। তবে বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে এটি কঠোরভাবে কার্যকর করায় নিয়মতান্ত্রিকভাবেই আমি পদ ছেড়ে দিয়েছি। ভবিষ্যতে যদি আমি এই চাকরি থেকে অবসর নিই বা চাকরি ছেড়ে দিই, তবে নিয়ম অনুযায়ী আবারও আমাকে সাংগঠনিক বড় দায়িত্বশীল পদে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।”
নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার নতুন সেক্রেটারির
এদিকে জেলা কর্মপরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের নতুন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া এনামুল হক দল ও দেশের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনিযুক্ত জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, “জেলা কর্মপরিষদের সকল সদস্যের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সংগঠনের রীতিনীতি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশনা মেনে কুষ্টিয়া জেলায় জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও সুসংহত করতে আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” জেলা জামায়াতের এই রদবদল রাজনৈতিক মহলে দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতিগত কঠোরতার এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
